আনেয়ারুল ইসলাম জুয়েল, চিলমারী,কুড়িগ্রাম।
অবশেষে ৫ম শ্রেণীর নিহত ছাত্রী হাসির লাশ গতকাল মঙ্গলবার পারবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সঙ্গীদের সাথে হাসি-খুশি থাকা শিশুটি হঠাৎ সব আনন্দ-আহ্লাদ ত্যাগ করে অসীমের কোলে হারিয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়ের বন্ধু,, বান্ধবী ও খেলার সাথীরা অশ্রুসজল নয়নে তাকে খুজে ফিরছে। বিদ্যালয়ের কম উচ্চতার রেলিং বেষ্টিত ছাদে উঠে একটু খুনসুটি করতে গিয়ে গত সোমবার এই কোমলমতি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবরে এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় বিদ্যালয় ও আশ-পাশ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানা গেছে, উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকার কেডিওয়ারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার হাসি সোমবার দুপুরের দিকে বিদ্যালয়ের ২য় তলার ছাদে উঠে খেলতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। আহত অবস্থায় চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে ডাঃ তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রংপুর নেয়ার সময় পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসএম আলিমুল রাজি। তিনি জানান, দুপুরে টিফিনের সময় হাসি ও তার বান্ধবীরা ২য় তলায় ছাদে ওঠে। চারিদিকে ২ ফুট উচ্চতার রেলিং বেষ্টিত ছাদটি নিরাপদ না হলেও কৌতুহুলি শিক্ষার্থীরা সেখানে যায়। এ সময় হঠাতেই হাসি নিচে পড়েগিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিহত হাসি স্কুল সংলগ্ন এলাকার হামিদুল ইসলামের কন্যা। হাসির মৃত্যুতে এলাকার অভিভাবকগণ আতংকিত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ২য় তলার ছাদের উপরে যে রেলিং দেওয়া হয়েছে তা মাত্র ২ থেকে আড়াই ফুট উচ্চতা যা অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। ফলে শিশুরা ছাদে উঠে ঘোরাঘুরি করতে গিয়ে অসাবধনতা বশতঃ নীচে পড়ে যাওয়ায় এ ধরণের মর্মান্তিক দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেতে ছাদের রেলিং পূনঃস্থাপনের জন্য দাবী জানিয়েছেন। ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে ২য় তলার ছাদের রেলিং উচু করনের ব্যবস্থা গ্রহন সহ নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন সচেতন মহল।
এব্যাপারে উপজেলাপ্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান সহ শিক্ষা অফিসের কেউই উক্ত এলাকায় না যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।











