মোঃ ফারুক , উত্তরবঙ্গের সংবাদ:কুড়িগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কর্মসূচি শেষ হওয়ার মুহূর্তে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলায় তিন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও এক সাংবাদিক আহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে জেলা শহরের কলেজ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহতরা হলেন—ছাত্র ইউনিয়ন কুড়িগ্রাম জেলা সংসদের সভাপতি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক অনিরুদ্ধ প্রণয়, যুগ্ম আহ্বায়ক সাদিকুর রহমান, সাধারণ শিক্ষার্থী রতন অধিকারী এবং দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সহ-নির্বাহী সম্পাদক ও উত্তরবঙ্গের সংবাদের প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ ফারুক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনকারীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ মোড় থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শাপলা চত্বর (জিরো পয়েন্টে) সমাবেশ করে। সেখানে ২০ মিনিট সড়ক অবরোধ শেষে মিছিলটি আবার কলেজ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এরপর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভা ও প্রেস ব্রিফিং চলাকালে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. গাদ্দাফি, বিদ্যুৎসহ প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় সাংবাদিক মোঃ ফারুক ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত ও শার্টের কলার ধরে মাথায় আঘাত করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. গাদ্দাফি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব আমাদের ওপর চাপানো হচ্ছে।”
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহমেদ বলেন, “কুড়িগ্রামে কোটা নিয়ে দুই ধরনের মত রয়েছে। ছাত্রলীগের ব্যানারে নয়, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীর একটি অংশ আন্দোলনকারীদের নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছে। এখানে ছাত্রলীগের নাম শুধু শুধু ট্যাগ লাগানো হচ্ছে।”
কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এ কে এম ওহিদুন্নবী বলেন, “হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কেউ যেন এ ঘটনার রেশ ধরে শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”






