রবিবার, ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

কুড়িগ্রামের চার আসনে জামানত হারিয়েছেন ১৮ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জনই জামানত হারিয়েছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।

জামানত হারানোদের দলে রয়েছেন জাতীয় পার্টি (জাপা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র এসব প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যক অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী)
এই আসনে ভোট পড়েছে মোট ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৭৮৭টি।

ছয়জন প্রার্থী আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে জামানত হারিয়েছেন তিনজন। তারা হ‌লেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র হারিসুল বারী (হাতপাখা),  পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৮০৭ ভোট; গণ অধিকার পরিষদের বিন ইয়ামিন মোল্লা (ট্রাক), পেয়েছেন ২৩১ ভোট এবং জাকের পার্টির আব্দুল হাই (গোলাপ ফুল) পেয়েছেন দুই হাজার ৯০৭ ভোট।কুড়িগ্রাম-২ (সদর-ফুলবাড়ী-রাজারহাট)
এ আসনে মোট ভোট পড়েছে তিন লাখ ৯৪ হাজার দুইটি।

৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেওি সাতজনই জামানত হারিয়েছেন।জামানত হারানো প্রার্থীরা হ‌লেন জাতীয় পার্টির পনির উদ্দিন আহমেদ (লাঙ্গল), পেয়েছেন ১৩ হাজার ৮৪৬ ভোট; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র নূর বখত (হাতপাখা), পেয়েছেন ২৪ হাজার ৮২৯ ভোট; নাগরিক ঐক্যের মোহাম্মদ আব্দুস সালাম (কেটলি) এক হাজার ১০০ ভোট, সিপিবির নূর মোহাম্মদ (কাস্তে), পেয়েছেন ৬৫৭ ভোট; বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান (কাঁঠাল), পেয়েছেন ৪২১ ভোট; এবির পার্টির নজরুল ইসলাম খান (ঈগল), পেয়েছেন ৯০৪ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাফিউর রহমান (হাঁস), পেয়েছেন ৩১৪ ভোট পান।

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর)
তিন লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ ভোটারের এই আসনে ভোট পড়ে দুই লাখ ২৩ হাজার ৮১০। ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন।

জামানত হারানো প্রার্থীরা হ‌লেন জাতীয় পার্টির আব্দুস সোবহান (লাঙ্গল), পেয়েছেন দুই হাজার ১১২ ভোট; গণ অধিকার পরিষদের সরকার নূরে এরশাদ সিদ্দিকী (ট্রাক), পেয়েছেন ৫৯৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাফিউর রহমান (হাঁস), পেয়েছেন ২৩৯ ভোট পান।

উল্লেখ্য, সাফিউর রহমান একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম-২ আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন সেখানেও।

কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী-রৌমারী-রাজীবপুর)
এ আসনে মোট ভোট পড়ে দুই লাখ ২২ হাজার ৪৬৭। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ২৭ হাজার ৮০৮ ভোট। সে হিসেবে সাত প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন পাঁচজন।

জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির কে এম ফজলুল মণ্ডল (লাঙ্গল), পেয়েছেন দুই হাজার ১৮০ ভোট; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র হাফিজুর রহমান (হাতপাখা), পেয়েছেন ছয় হাজার ২৩১ ভোট; স্বতন্ত্র প্রার্থী রুকুনুজ্জামান (বালতি), পেয়েছেন ২০ হাজার ৯০২ ভোট; বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর রাজু আহমেদ (কাঁচি), পেয়েছেন ৩২০ ভোট এবং বাসদের শেখ মোহাম্মদ আব্দুল খালেক (মই), পেয়েছেন ২০১ ভোট।

নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রদত্ত বৈধ ভোটের ন্যূনতম আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

জেলায় চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ছিলেন ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ জন, নারী ৯ লাখ ৫৪ হাজার ২০৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৪ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট পড়েছে জেলার আসনগুলোতে মোট ভোট পড়েছে ১১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৬ ভোট, যা মোট ভোটারের প্রায় ৬৩ শতাংশ।

সম্পর্কিত