শনিবার, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৬শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

উলিপুরে চার দিনের ব্যবধানে ব্রয়লারের মাংস কেজিতে বাড়ল ৮০ টাকা ক্রেতাদের অভিযোগ

 

মোঃ মাইনুল ইসলাম
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

উলিপুর উপজেলায় চার দিনের ব্যবধানে ব্রয়লারের মাংস কেজিতে বাড়লো ৮০,টাকা দুর্গাপুর বাজার এবং পাঁচ পীর বাজার ঘুরে দেখা যায়,শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ) প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি মাংস- ২৯০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লাগামহীনভাবে বাড়ছে ব্রয়লার মুরগির দাম।গত চার দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৭০-৮০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ও সবজির মতো ২৯টি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কৃষি বিপণন আইন ২০১৮ এর ৪(ঝ) ধারার ক্ষমতাবলে কতিপয় নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত দামে কৃষিপণ্য ক্রয়–বিক্রয়ের অনুরোধ করা হয়েছে। সেখানে ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ ১৪৫ টাকা ৭৮ পয়সা। উৎপাদক পর্যায়ে দাম ১৫১ টাকা ৮১ পয়সা, পাইকারি পর্যায়ে ১৬২ টাকা ৬৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ১৭৫ টাকা ৩০ পয়সা। তবে এই দামে কোথাও বিক্রি হচ্ছে না।

একইভাবে গরুর মাংসের উৎপাদন খরচ ৫৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। উৎপাদক পর্যায়ে দাম প্রতি কেজি ৬০৫ টাকা ১৩ পয়সা, পাইকারি পর্যায়ে ৬৩১ টাকা ৬৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ৬৬৪ টাকা ৩৯ পয়সা।

তবে আজকের বাজারে দেখা গেছে, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি। এ দাম বাড়াকে অস্বাভাবিক বলছেন ভোক্তারা।

একজন মহিলা পাঁচপীর বাজার থেকে ১,কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস ২৯০ টাকায় কিনেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা জিম্মি হয়ে গেছি। এই রমজানের মাত্র আর কয়েকদিন। এজন্য মুরগি কিনব, ভাবলাম দুর্গাপুর বাজারে কম দাম হবে। এখানেও কেজি ৩০০ টাকা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সংসার চালাব কীভাবে। চার জনের সংসারে খাবার খরচ এতো বেশি হলে সংসার চালাবো কি করে অথচ মাসে বেতন অল্প কয়েক হাজার টাকা। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা তা মানছে না। নিম্ন আয়ের লোকদের কথা চিন্তা করে হলেও সরকারের বাজার মনিটরিংয়ে জোর দেওয়া প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘গরুর  মাংসের দামতো  অনেক আগেই আমাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। যা দেখছি সামনে মুরগিরও কিনতে পারব না।'”জনপ্রিয় পোল্ট্রি ব্রয়লার হাউজের মালিক মোঃ এনামুল ইসলামের কর্মচারী মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, ‘কি করব আমরা, আমাদের পাইকারি কিনতে হয় গোটাল মুরগি ২০০ টাকা কেজিতে। আর গরমে মুরগি মারা যায়। এছাড়া আমাদের দোকান ভাড়া আছে, কর্মীদের বেতন দিতে হয়। এর কম বিক্রি করলে লাভ থাকে না।’তিনি বলেন, ‘গত চারদিনে কেজিতে প্রায় ৮০ টাকা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম।’

এনামুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারের চাহিদার তুলনায় মুরগির সরবরাহ কম, তাই দাম বাড়তি। পাইকারিতে দাম বেড়েছে, তাই খুচরাতে এর প্রভাব পড়েছে।’

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত বছর এ সময় ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল প্রতি কেজি ১৯০ টাকা।

খুচরা বাজারে মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ও সবজির মতো ২৯টি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকারর। তাই বাজারগুলোতে মনিটরিং করার জন্য কুড়িগ্রাম প্রশাসনের কাছে দাবি জানান সাধারণ খেটে খাওয়া দিন মজুর।

সম্পর্কিত