রবিবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২০শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিচ্ছেন অধ্যাপক সি আর আবরার

মোঃমকবুলার রহমান,স্টাফ রিপোর্টারঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) আগামীকাল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেবেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, বুধবার বেলা ১১টায় শপথ গ্রহণের পর অধ্যাপক আবরার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেবেন। বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, যিনি এরপর থেকে শুধু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সামলাবেন।

শফিকুল আলম বলেন, “প্রফেসর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ অনেকদিন ধরেই জানাচ্ছিলেন যে, তিনি একসঙ্গে দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায়, অধ্যাপক সি আর আবরারকে উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত করা হচ্ছে।”

একাডেমিক ও কর্মজীবন:

ফরিদপুরে ১৯৫২ সালের আগস্টে জন্ম নেওয়া অধ্যাপক সি আর আবরার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করে যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স ও অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন তিনি। মানবাধিকার, শ্রমিক অভিবাসন ও শরণার্থী বিশেষজ্ঞ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন তিনি।

বাংলাদেশে শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ে গবেষণার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক আবরার। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটসহ নানা অভিবাসন ইস্যুতে তিনি সরব ভূমিকা রেখে আসছেন। পাশাপাশি, উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

মানবাধিকার ও সামাজিক কর্মকাণ্ড:

অধ্যাপক আবরার বর্তমানে মানবাধিকার সংগঠন “অধিকার”-এর সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। অভিবাসন, নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন তিনি।

উপদেষ্টা পরিষদে নতুন সংযোজন:

সি আর আবরারের শপথ গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ২২-এ।

প্রসঙ্গত, গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রথম দফায় ১৬ জন উপদেষ্টার নাম ঘোষণা করা হয়, তাদের মধ্যে ছিলেন ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ড. আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, হাসান আরিফ, তৌহিদ হোসেন, সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, শারমিন মুরশিদ, ফারুকী আযম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, সুপ্রদীপ চাকমা, বিধান রঞ্জন রায়, আ.ফ.ম খালিদ হাসান, ফরিদা আখতার, নুরজাহান বেগম, মো. নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

পরবর্তীতে ১৬ আগস্ট উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আলী ইমাম মজুমদার, ফাওজুল কবির খান এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। নভেম্বরে আরও তিনজন—শেখ বশির উদ্দিন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও মাহফুজ আলম—শপথ নেন।

এই সময়ের মধ্যে উপদেষ্টা হাসান আরিফ মৃত্যুবরণ করেছেন এবং মো. নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন।

অধ্যাপক সি আর আবরারের অন্তর্ভুক্তি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্পর্কিত