সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ADVERTISEMENT

হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে স্বামী-স্ত্রীর ইসলাম গ্রহণ: পদ্মনাথ থেকে আবু বকর, বৃষ্টি থেকে আমেনা

কলি আক্তার, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:

ইসলামের সুমহান আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে একমাত্র শিশু সন্তানকে নিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন স্বামী-স্ত্রী। আলোচিত এ ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলা পল্লীর আমুরবুনিয়া গ্রামের হিন্দু পাড়ায়।
নওমুসলিম যুবক পদ্ম নাথ বিশ্বাস ওই গ্রামের সৈলেন বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে এবং তার স্ত্রী বৃষ্টি রায় পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমুলা শিয়ালকাঠী গ্রামের সুমন রায়ের মেয়ে।প্রায় ৩ বছর পূর্ তাদের বিয়ে হয়।এ দম্পতির ১৮ মাস বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রযেছে। ইসলামের কালিমা গ্রহন করে মুসলিম হওয়ার পরে নওমুসলিম যুবক পূর্ব নাম পরিবর্তন করে সারা বিশ্বের প্রথম মুসলিম ও মহানবী(সা.) এর প্রধান সাহবীর নাম অনুস্মরণে পূর্বের নাম পরিবর্তন করে পদ্ম নাথ বিশ্বাস থেকে হয়ে গেলেন আবু বকর ওরফে সবুজ। আর তার স্ত্রীও পূর্ব নাম পরিবর্তন করে মহানবী(সা.) মায়ের নাম অনুস্মরণে পূর্বের নাম পরিবর্তন করে বৃষ্টি রায় থেকে হয়ে গেলেন আমিনা। আর শিশু সন্তানের পূর্ব নাম পৃথা পরিবর্তন করে নাম রেখেছেন মহানবী(সা.)আদরের ‍দুলাড়ীর নাম অনুসারে ফাতেমা বেগম।এদিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহনের কারণে বুধবার রাতে ইসলামের বিধান অনুযায়ি তাদের মধ্যে আবার নতুন বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বুধবার(১৭.০১.২০২৪) বিকেলে সরজমিনে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ওই গ্রামে নওমুসলিমের বাবা শৈলেন বিশ্বাসের বসত বাড়িতে গেলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। এলাকার হিন্দু – মুসলিম নরী শিশু ও পুরুষ দলে দলে ওই বারিতে জড় হয়েছে নওমুসলিম দম্পতিকে এক নজর দেখার জন্য।
এ প্রতিবেদকে সাথে কথা হয় নওমুসলিম দম্পতি পূর্ব নাম পদ্যনাথ বিশ্বাস ও বৃষ্টি বিশ্বাসের সঙ্গে অর্থাৎ আবু বকর সবুজ তার স্ত্রী আমেনা বেগম ও তার মা রেক্সোনার(হিন্দু) সঙ্গে।
নও মুসলিম আবু বকর জানায়, গত ১৪ জানুয়ারি সে খুলনা নেটারী পাবলিকের মাধ্যমে এ্যাফিডেভিট করে আইনগতভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন। তিনি সম্পূর্ণ স্বজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে, কারো প্ররোচনা বা চাপ ছাড়াই নিজ ইচ্ছায় স্বাধীনভাবে ইসলাম গ্রহন করে মুসলিম হয়েছেন।
ইসলাম গ্রহনের কারণ সম্পর্কে আবু বকর জানায়, ইসলামের সব নিয়ম কানুন আমার ভালো লাগে, বিশেষ করে মুসলমানদের আচার- আচরণ কৃষ্টি কালচার ভালো লাগে এ ছাড়াও ইসলামিক বই-পুস্তক পাঠ করে এবং ইউটুবে ইসলামি ওয়াজ নসিহত বিশেষ করে মিজানুর রহমান আজহারীর আলোচনা শুনে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহনে আগ্রহী হন। প্রায় বছর খানিক ধরে তিনি ইসলাম গ্রহনের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা- ভাবনা করে আসছিলেন। অবশেষে স্থানীয় এক ইমামের কাছে গিয়ে কালিমা পাঠ করে ইসলাম গ্রহন করে মুসলিম হয়ে যান।
তার স্ত্রীর (পূর্ব নাম বৃষ্টি) ইসলাম গ্রহনের বিষয় জানতে চাইলে আবু বকর বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এসব বিষয় নিয়ে তার সাথে আমার কথা হতো, আমি ইসলাম গ্রহনের পরপরই তাকে মুসলিম হওয়ার জন্য দাওয়াত দিলে প্রথমে সে একটু ইতস্ত হলেও পরবর্তীতে সে ইসলাম গ্রহনে আগ্রহী হলে স্থানীয় আলেমের কাছে কালিমা পাঠ করে ইমান গ্রহন করে এবং ১৬ জানুয়ারি বাগেরহাট নেটারী পাবলিকে এ্যাফিডেভিট করে আইনীভাবে ইসলাম গ্রহন করেন।

ইসলাম গ্রহনকারী নও মুসলিমা আমেনা বেগম জানায়, স্বামী ইসলাম গ্রহন করে আমাকে ইসলামের দাওয়াত দেয়। প্রথম প্রথম একটু কেমন কেমন লাগলেও পরে ইসলাম গ্রহনে রাজি হয়ে যাই। রাজি হতে স্বামি জোড় করেছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে আমেনা বেগম জানায়, না কোন জোর জবর দস্তিতে নয়, মুসলমানদের সকল কাজ-বাজ ভালো লাগায় সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় স্বাধীনভাবে ইসলাম গ্রহন করেছি। বাকি জীবনটা ইসলামে সুমহান আদর্শ অনুসরণে কাটিয়ে দিতে চাই।

কথা হয় নওমুসলিম আবু বকরের মা রেক্সোনার(হিন্দু) সঙ্গে, ছেলে এবং ছেলের স্ত্রী ইসলাম গ্রহন করায় তিনি কিছুটা কষ্ট পেয়েছেন, কারণ পদ্ম নাথ তাদের একমাত্র ছেলে। তবে যেহেতু সে সাবালক তাই যে কোন সিন্ধান্ত নেয়ার অধিকার তার আছে। তবে ছেলের জন্য তিনি অমঙ্গল নয়, মঙ্গল কামনা করেন। তিনি সারা জীবন তার সন্তানের জন্য আশির্বাদ করবেন, যাতে তার সন্তান পরিবার নিয়ে ভালো থাকে।

সম্পর্কিত