সোমবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি
সোমবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

সীমান্তে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা, কৃষকরা নিশ্চিন্তে ধান কাটতে পারবে: উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

মোঃ মকবুলার রহমান,স্টাফ রিপোর্টার নীলফামারীঃ

স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আশ্বস্ত করেছেন, দেশের সীমান্তে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি নেই। তিনি বলেন, “সীমান্তে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ভয়ের কিছু নেই। কৃষকরা নিশ্চিন্তে তাদের ধান কাটতে পারবে।”

বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মোকলেছপুর ইউনিয়নের ঢেলপীর ব্লকে ব্রি-৮৮ জাতের বোরো ধান কাটার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। এক সময় ৭ কোটির মতো জনগণ ছিল, তখন কৃষিজমি ছিল বেশি। এখন লোকসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ কোটিতে, কিন্তু কৃষিজমি কমেছে। তবুও উন্নত জাত এবং কৃষক ও বিজ্ঞানীদের নিরলস পরিশ্রমে উৎপাদন ভালো হচ্ছে।”

বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “তাদের যেন ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যায় এবং উৎপাদন ব্যয় কমানো যায়—সে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি চাকরিজীবীদের দুর্নীতি কমাতে হবে।”

কৃষিজমি রক্ষায় নতুন আইন প্রণয়নের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “ভূমি ব্যবহার নীতিমালা ও কৃষিজমি সংরক্ষণ আইনের খসড়া তৈরি হচ্ছে। খুব শিগগিরই আইন প্রণয়ন করা হবে যাতে করে কৃষিজমিতে ভাটা নির্মাণ বন্ধ করা যায়।”

পরে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “উঠান বৈঠকের জন্য যে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা আত্মসাৎ করলে ছাড় দেওয়া হবে না। পকেটে টাকা ঢুকালে কেউ রেহাই পাবে না। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করাই আপনাদের কাজ।”

এ সময় তিনি কৃষকদের লিচুর মৌসুমে কীটনাশক স্প্রে থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক তরিকুল ইসলাম, রংপুর বিভাগের কমিশনার শহীদুল ইসলাম, রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, আরএমপি কমিশনার মজিদ আলীসহ বিভাগের ৮ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়াও, সাংবাদিকদের শৃঙ্খলা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা যদি নিজেরাই শৃঙ্খলা বজায় না রাখতে পারেন, তবে ১৮ কোটি মানুষের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে কতটা কষ্ট হয়, তা উপলব্ধি করুন। আপনাদের মধ্যেই শিক্ষিত, উচ্চবিত্ত মানুষ রয়েছেন, আপনাদের শৃঙ্খলা মানাই জাতির দায়িত্বশীল আচরণ।”

সম্পর্কিত