নভেম্বর ২৬, ২০২২ ৩:১৪ বিকাল



সলঙ্গায় গরুর সাথে যৌন মিলনকালে এক ব্যক্তি হাতেনাতে আটক

নিউজ ডেক্স,

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দশিমলা গ্রামে গরুর সাথে যৌন মিলনকালে সাবান আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।

এঘটনায় গরুর মালিক ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে স্থানীয় প্রধান মাতব্বরদের নিকট বিচারপ্রার্থী হলে তাকে বিচার না দিয়ে মাতব্বরগন নরপশু সাবান আলীর নিকট থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে চাঞ্চল্যেকর এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়েছে।

এদিকে প্রধান মাতব্বরদের বিতর্কিত এ কর্মকান্ড নিয়ে এলাকা জুড়ে ধিক্কার ও নিন্দার ঝড় বইছে।

অপরদিকে জনস্বার্থে সাবান আলীর বিচারের দাবীতে এলাকার বিক্ষুদ্ধ জনতা সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও এলাকাবাসীর পক্ষে মো: নুর হোসেনের দাখিলকৃত অভিযোগটি আমলে নেয়নি পুলিশ।

সরেজমিনে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে,সলঙ্গা থানার খোর্দ্দশিমলা গ্রামের মৃত আমীর উদ্দিনের ছেলে ইসমাইল হোসেন প্রতিদিনের ন্যায় তার বাড়ির গোয়াল ঘরে গরু বেঁধে ঘুমিয়ে পরে।

এরই একপর্যায়ে গত বুধবার (০১-০১-২০২০) ইং তারিখ অনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই গ্রামের প্রতিবেশি মৃত কোবাদ আলীর ছেলে সাবান আলী (৪৫) ইসমাইল হোসেনের গোয়াল ঘরে প্রবেশ করে তার বেঁধে রাখা গাভীন গরুর সাথে যৌন মিলনে লিপ্ত হয়।

এমন সময় ইসমাইল হোসেনের পুত্রবধু প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বাহির হলে গোয়াল ঘরে গরুর লাফালাফির শব্দ শুনে গোয়াল ঘরের দিকে এগিয়ে যায়। তখন তিনি সাবান আলীকে গরুর সাথে যৌনমিলনে লিপ্ত থাকাবস্থায় দেখতে পায়।

মানুষ নামের অমানুষের এমন কার্যকলাপ দেখে সে চিৎকার করে। তার চিৎকারে বাড়ির লোকজনসহ প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে সাবান আলীকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এসময় সাবান আলী তাদের পা ধরে ক্ষমা চায়। কিন্তুু গ্রামবাসী ক্ষমা না করে তাকে বেঁধে রাখে।

পরে সাবান আলীর পরিবারের লোকজন এসে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেবার কথা বলে তাকে নিয়ে যায়। কিন্তুু তারা বিচার না দিয়ে কালক্ষেপন করতে থাকে। ফলে গরুর মালিক ইসমাইল হোসেন ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে গ্রাম্যপ্রধান হাসান আলীর নিকট ১হাজার টাকা রোজ ফি দেয়।

কিন্তুু বিচারের দিনক্ষনের আগেই গোপনে গ্রাম্যপ্রাধান ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকসহ আব্দুস ছালাম ও লিটন গত শুক্রবার রাতে গরুর মালিক ইসমাইল হোসেনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিচার কার্য না করে তারা ধর্ষক সাবান আলীর নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে জনসম্মুখে বিচার না করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয় এবং ধর্ষিত গরুটি সাবানকে দিয়ে তার পরিবর্তে আরেকটি গরু ইসমাইল হোসেনকে দিয়ে দেয়।

রাতের আধারে বসে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়া হয়েছে বলে পরের দিন শনিবার সকালে গ্রামবাসীসহ স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়লে তারা ধর্ষক সাবান আলীসহ উল্লেখিত প্রধান মাতব্বারদের বিরুদ্ধে বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। পরে তারা ধর্ষকের শাস্তির দাবী জানিয়ে পুলিশ প্রশাসনের ৯৯৯ হেল্প লাইনে যোগাযোগ করে।

এবিষয়ে পুলিশের উচ্চ মহল থেকে স্থানীয় জনতাকে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দাখিল করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে জনস্বার্থে মৃত ছাদেক আলী প্রামানিকের ছেলে মো: নুর হোসেন বাদী হয়ে সাবান আলীর বিরুদ্ধে শনিবার সন্ধ্যায় সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে তার অভিযোগ গ্রহন করেনি পুলিশ।

এদিকে অভিযোগটি থানা পুলিশ গ্রহন না করায় পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং ধর্ষকের বিচারের দাবীতে এলাকার বিক্ষুদ্ধ জনতা ফুঁসে উঠছে।

এঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকার সচেতন মহল।

অনুসন্ধানে আরো জানাযায়,সাবান আলী ইতোপুর্বেও ছাগল ও ভেড়ার সাথে একাধিকবার যৌন মিলনের ঘটনা ঘটিয়েছে। যা নিয়ে এলাকায় বার বার দেন দরবার ও জরিমানাও করা হয়েছিল।

এব্যাপারে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেড জেড মো: তাজুল হুদার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি কেন তা খতিয়ে দেখা হবে কারণ জনস্বার্থে যে কোন ব্যক্তি অভিযোগ থানায় দাখিল করতে পারে,তবে অভিযোগটি আমলে নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সুত্র, যমুনা প্রতিদিন



Comments are closed.

      আরও নিউজ