বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

সড়কের কাজে ধীরগতি , ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

রওশন জালালী (দেবীগঞ্জ) পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

নির্মান কাজে ব্যবহৃত নিম্নমানের ইটের খোঁয়ার লালচে ধুলায় ছেয়ে গেছে সড়কের দুপাশের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ও গাছপালা। জনদূর্ভোগে পরিনত হয়েছে পঞ্চগড়ের, দেবীগঞ্জ পৌরসভার, দেবীগঞ্জ-ভাউলাগঞ্জ সড়কের সবুজপাড়া এলাকার প্রায় ২০০মিটার সড়ক।

ইটের খোঁয়ার লালচে ধুলা থেকে বাঁচতে রাস্তার দুপাশের বাসিন্দারা বাঁশের খুটির ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করছেন, যাতে ধুলা থেকে বাঁচতে পারেন। ফলে বাধ্য হয়েই পৌর শহরের মধ্যে বাজারের সড়ক দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। ফলে তুলনামূলক ছোট এই সড়কটিতে সবসময় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে ক্রেতা সাধারণের। এছাড়া ভারী যানবাহন চলাচল করার কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুন্সীপাড়া থেকে এলএসডি মোড় পর্যন্ত সড়কটির। এছাড়াও ভারী যানবাহন চলাচলের কারনে ভেঙে গেছে বাজারের ১টি কালভার্ট। প্রায় তিন মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে সড়কের কাজ। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এই সমস্যার সমাধান চেয়ে দ্রুত কাজটি সমাপ্ত করার আবেদনও করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দেবীগঞ্জ উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের ২৩ অক্টোবর দেবীগঞ্জ- ভাউলাগঞ্জ সড়কের ১ দশমিক ৩৮৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজটি শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রূপালী এন্টারপ্রাইজ। এক বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। কাজের সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু দেবীগঞ্জ পৌর শহরের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে সবুজপাড়ার প্রায় পর্যন্ত ২০০ মিটারের বেশি সড়কে ইটের খোয়া ফেলে রোলিং করার ফলে নিম্ন মানের ইটের খোঁয়া গুড়ো হয়ে ধুলার উৎপত্তি করছে। ফলে গাড়ি চলাচল করলেই লালচে ধুলায় অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে রাস্তার দুপাশের ঘরবাড়ি ও গাছপালা। এই ধুলা থেকে বাঁচতে সড়কের দুপাশের বাসিন্দারা প্রায় দুইশ মিটার রাস্তায় ৩ জায়গায় ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে। শুধু মাত্র মোটর সাইকেল ও রিক্সা ভ্যান ছাড়া কোন যানবাহন এই সড়কে ঢুকতে পারছে না। এছাড়াও সড়কের দু-পাশে থাকা কিছু দোকানদারেরা ধুলা থেকে বাঁচতে দোকানের অর্ধেক শাটার খুলেই চালাচ্ছে ব্যবসা। বন্ধ রাখা হচ্ছে ঘরের জানালা। স্থানীয় বাসিন্দাগণ বলেন, ‘তিন মাসের বেশি সময় ধরে কাজ না করে এভাবে খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে। ইটের খোয়াগুলোও নিম্নমানের। সহজেই তা গুঁড়া হয়ে ধুলায় পরিণত হচ্ছে। ঠিকাদার পানিও ছিটিয়ে দেয় না। ধুলার কারণে বাড়ি থেকে বাচ্চাদের নিয়ে বের হতে পারি না। আমরা এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে পৌরসভার মেয়র, ইউএনও, এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাইনি।’

এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার রফিকুল ইসলামকে বারবার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তিনি ইউপি সদস্য জুয়েল পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তিকে দিয়ে কল রিসিভ করান। তিনি জানান, ঠিকাদার মিটিংয়ে আছেন, তিনি আরো জানান তিনি একজন চেয়ারম্যান। দেবীগঞ্জ থেকে সড়কের কাজের বিষয়ে কথা বলবো জানালে তিনি বলেন, কাজটা তাড়াতাড়িই করা হবে। এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ পৌর মেয়র আবু বকর সিদ্দীক বলেন, এই রাস্তার কাজ শেষ না করার কারনে প্রচুর ধুলাবালিতে আশপাশের বাড়িঘর লাল হয়ে গেছে। ছোট বাচ্চা বয়স্ক মানুষ অসুস্থ হয়ে পরছে। মধ্যবাজারে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে ইতিমধ্যে পৌরসভার একটি কালর্ভাট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।   রাস্তার কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য ইতিমধ্যে আমি জেলা সমম্বয় কমিটির সভায় আলোচনা করেছি। জেলা প্রশাসক মহোদয় আমার সাথে একাত্মতা পোষন করে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে দ্রুত কাজটি সমাপ্ত করার জন্য বলেছেন”।

দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শাহরিয়ার
ইসলাম শাকিল জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর তলব করে চিঠি দিয়েছেন তিনি। তাঁর চুক্তি বাতিল করার জন্য বারবার নোটিশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার ফোন ধরেন না।

সম্পর্কিত