আজ ১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ



রৌমারীতে শিক্ষার্থীর বিষপানে প্রেমিক মেহেদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

 

রৌমারী (কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে স্কুলে গিয়ে বিষপানে হত্যার চেষ্টায় প্রেমিক মেহেদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন স্কুল প***য়া এক শিক্ষার্থী। ১৮ ডিসেম্বর (শনিবার) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দঁাতভাঙ্গা দ্বি-মুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠিরা তাকে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। ওই শিক্ষাথর্ী উপজেলার দঁাতভাঙ্গা দ্বি-মুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষাথর্ী। বিচারের দাবীতে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও
বিচার পাচ্ছে না ভূক্তভোগি পরিবার।
দঁাতভাঙ্গা দ্বি-মুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কামাল হোসেন বিএসসি বলেন,
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত নবম শ্রেণী ও ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দশম শ্রেণীর শিক্ষাথর্ীদের প্রাইভেট পড়ানো হয়। ১০টার দিকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়ার সময় অন্য এক শিক্ষার্থী আমাকে জানান, স্কুল মাঠে এক শিক্ষাথর্ী বিষপান করেছেন। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী সহায়তায় তাকে রৌমারী হাসপাতালে নিয়ে
ভর্তি করানো হয়।
ওই শিক্ষাথর্ীর বাবা দঁাতভাঙ্গা ইউনিয়নের ধর্মপুর পূর্ব পাড়া গ্রামের আজবাহার আলী
জানান, সকালে গণিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়তে সে স্কুলে যায়। লোক মারফত জানতে পারি
সে বিষপান করেছে এবং রৌমারী হাসপাতালে ভর্তিও করা হয়েছে। পরে আমার মেয়ে
সুস্থ্য হলে বিষপান ঘটনার কথা জানতে চাইলে তিনি জানান দাঁতভাঙ্গা গ্রামের
সাইজুদ্দিনের ছেলে মেহেদী হাসানের সাথে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। তাদের
মধ্যে কি নিয়ে ঝগড়া বিবাদ হওয়ার পরে মেহেদী বিষের বোতল এনে মেয়েকে বিষপান
করানো হয়েছে। বিষয়টি চেয়ারম্যান মহোদয় এসএম রেজাউল করিমকে জানানোর পর
এঘটনা নিয়ে সমাধান করবে বলে দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কালক্ষেপন
করছেন। এদিকে আমার মেয়ে ঘটনার সঠিত বিচার চেয়ে আইনের স্বরনাপন্ন হতে
চাচ্ছে।
বিষপানে হত্যার চেষ্টার শিক্ষাথর্ী সাংবাদিকদের ভিডিও সাক্ষাতকারে অভিযোগ করে বলেন, দাঁতভাঙ্গা গ্রামের সাইজুদ্দিনের ছেলে মেহেদী হাসানের সাথে আমার প্রায়
আড়াই বছরের প্রেম এবং বিবাহ বন্ধনের প্রতিশ্রুতি বদ্ধের প্রেমের সম্পর্ক। হঠাৎ করে এ বছর সেনা সদস্য পদে চাকুরি হয়ে যায়। এবং আগামী কয়েক মাসের মধে যোগদান করবে। মেহেদীকে স্কুলে ডেকে নিয়ে প্রেমের প্রতিশ্রুতি বদ্ধে তাকে
বিবাহ করার চাপ দিলে আমাকে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় কথা বলে এবং বলা হয় এতোদিন
যাবত যাহা হয়েছে তাহা সবকিছু ভূলে গিয়ে অন্যত্র বিবাহ করে নিও। আমি চাকুরি
পেয়েছি ভালো জায়গায় বিয়ে করে নিবো। আমার বিবাহের প্রতিশ্রুতিবদ্ধে এ
যাবত যাহা কিছু হয়েছে তাহা সব প্রতারনা ও ভন্ডামি ছিল কি? আমার এ জীবন রেখে
লাভ হবে না। মেহেদী বলে বিষপান অথবা ফাঁস দিয়ে মরে যাও আমার কোন আপত্তি নেই।
আমি বিষপান করেই মরে যাব আমাকে বিষ এনে দাও। মেহেদী সঙ্গে সঙ্গে বাজার থেকে
বিষের বোতল এনে কর্ক খুলে আমাকে খাওয়াইয়া দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আমি আর
কিছু বলতে পারি না। আমার স্যার ও বান্ধবিরা আমাকে রৌমারী হাসপাতালে নিয়ে সুস্থ্য
করে আনে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দঁাতভাঙ্গা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ঐদিন স্কুল বন্ধ ছিল। পরে বিকালে বাজারে এসে ওই শিক্ষাথর্ীর বিষপান করার ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু কী কারণে বিষপান করেছে জানতে চাইলে জানা যায় মেহেদী
ামের কোন ছেলের সাথে দীর্ঘদিনের একটা সম্পর্ক নাকি ছিল। এখন ওদের মধ্যে কি
ঘটনায় বিষপান করেছে তা আমার জানা নেই।

অভিযুক্ত মেহেদীর বড় ভাই দঁাতভাঙ্গা দ্বী-মুখী বালিকা উচ্চ ব্যিালয়ের অফিসহকারি
মমিনূল ইসলামের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান, মেয়েটি মেহেদীর বিষয়ে যে
প্রেম ঘটিত সম্পর্কের ঘটনা বলে সেই অভিযোগের কোন প্রমান নাই। তবে এর সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, আমার ছোট ভাই মেহেদীর সেনা বাহিনীতে নতুন চাকুরিটা না হলে কত মামলা করে দেখে নিতাম।

এ বিষয়ে দঁাতভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রেজাউল করিমের সাথে মোবাইল ফোনে
কথা বললে তিনি বলেন, মেয়ে পক্ষ আমার কাছে সমাধানের জন্য এসেছিল। আমি ছেলে
পক্ষকে সমাধানের লক্ষে কথা বলেছিলাম কিন্ত কোন কর্ণপাত না করায় মেয়ের পিতাকে
বলেছি। আমার পক্ষে সমাধানের আর সম্ভব হলো না। আপনারা বিষয়টি অন্যভাবে দেখেন।
পরে আর কোন পক্ষ আমার কাছে আসে নাই।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোন্তাছির বিল্লাহ বলেন, শিক্ষাথর্ীর বিষপানের
বিষয়ে ইউডি মামলা হয়েছে। অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত –
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।



Comments are closed.

      আরও নিউজ

ফেসবুক পেইজ