বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

রৌমারীতে শহিদ মিনারের বেদিতে জুতা পায়ে অতিথিরা

রৌমারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃশহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে ভাষা শহিদদের অবদানের কথা স্মরণীয় করে রাখার জন্য। প্রায় সময় ঘটছে শহিদ মিনার অবমাননার ঘটনা। তেমনি একটা ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কোমর ভাঙ্গি উচ্চ বিদ্যালয় শহিদ মিনারে। শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকালের দিকে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কোমড় ভাঙ্গি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সায়দাবাদ নতুন কুড়ি স্পোর্টিং ক্লাব এর আয়োজনে ভলিবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলাটির অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরি করা হয় শহিদ মিনারের বেদিতে।

সেখানে দেখা যায় অতিথি,স্থানীয় আ‘লীগ নেতা, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, গণ্যমান্য ব্যাক্তি, স্থানীয় এলাকাবাসিসহ অনেকে শহিদ মিনারের বেদিতে জুতা পায়ে উঠে খেলার অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। শহিদ মিনার ও শহিদদের অবমাননার এমন ঘটনায় উপজেলার সুধীজনদের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার ঝর বইছে। যেখানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় সেই শহিদ মিনারে বেদিতে মঞ্চ বানিয়ে জুতা পরে সেখানে উপস্থিত হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আয়োজকসহ জরিতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান অনেকে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিথি হিসাবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইমান আলী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আকতার স্মৃতি, ভাইস চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর হোসেন, যাদুরচর ইউনিয়ন আ,লীগের সভাপতি সাখওয়াত হোসেন সবুজ, ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী, ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া সহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ। সেখানে উপস্থিত সকলেই জুতা ও সেন্ডেল পায়ে দিয়ে শহিদ মিনারে সাজানো মঞ্চে উঠেন।

এব্যাপারে কোমড়ভাঙ্গি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, আমারা শুধু ভলিবল খেলার জন্য মাঠের অনুমিত নিয়েছি,তবে শহিদ মিনারের বিষয়টি আমি জানিনা। যাদুরচর ইউনিয়ন আ‘লীগের সভাপতি সাখওয়াত হোসেন সবুজ জানান,শহিদ মিনারে মঞ্চ করেছে এটা আমি খেয়াল করিনি। তবে ঘটনাটি দুঃখজনক।

যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলীর সাথে একাধীকবার ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আকতার স্মৃতির বলেন, আমি বিষয়টি খেয়াল করিনি ব্যানারে শহীদ মিনার ঢাকা ছিলো।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদরুল ইসলাম বলেন, এবিষয়ে আমার জানা নেই। তবে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইমান আলীর ফোনে একাধীকবার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন কেটে দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ হাসান খান বলেন, শহিদ মিনারে জুতা পায়ে দিয়ে উঠা ঠিক হয়নি। শহিদদের অসম্মান করা হয়েছে। বিষয়টি আমি দেখতেছি।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সাইদুল আরীফ জানান, যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত