আজ ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ



রাণীনগরে সাড়ে চার ঘন্টা পর ক্লাশে ফিরলো শিক্ষার্থীরা

 

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরে কমনরম্নম ও ক্লাশরম্নম থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়ার সাড়ে চার ঘন্টা পর থানাপুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যান/মেম্বারদের হস্তক্ষেপে ক্লাশে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা । পরীক্ষা ফি এবং অন্যান্য বেতন কমানোর জন্য প্রধান শিক্ষক আবেদন দিতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ক্লাশরম্নম ও মেয়েদের কমনরম্নম থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার উপজেলার শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে।
বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়,আগামী ২জুন শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে অর্ধ বার্ষিকী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার ফি,শিক্ষার্থী বেতন,বিদু্যৎবিল,উন্নয়ন ফিসহ বিভিন্ন খাতে ৯ম শ্রেনীতে ১হাজার ৪৮০ টাকা এবং ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের ১হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু এক যোগে এতো টাকা দিতে পারবেনা জানিয়ে শিক্ষার্থীরা সোমবার বেলা ১১টায় প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত আবেদন দিতে যায়। এসময় প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষক শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরী থেকে বের করে দেয়ার পর ক্লাস থেকে বের করে দেয় এবং ছাত্রীদের কমনরম্নম থেকে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। এসময় শিক্ষার্থীরা প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা ধরে বিদ্যালয় ক্যাম্পাশে অবস্থান করে নির্ধারিত ফি কমানোর দাবিতে আন্দোলন করতে থাকে। পরে বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ থানাপুলিশ,স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান/মেম্বারসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ক্লাশে ফেরায়।
ওই বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেনীর শিক্ষার্থী রিয়া আক্তার,ফারজানা খাতুন,নাহিদ হাসানসহ শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমানে আমাদের এলাকায় প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে ধান আবাদে লোকসান হওয়ায় অনেক ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছি। এই জন্য এখন অর্ধেক ফি নিয়ে অর্ধেক ফি বাঁকী রেখে পরীক্ষা নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত আবেদন দিতে গেলে আবেদন না নিয়ে প্রধান শিক্ষক আমাদের গালাগালি করে থানাপুলিশে দেয়াসহ নানান ধরনের হুমকি দিয়ে লাইব্রেরী থেকে বের করে দেয়। এর পর মেয়েদের কমন রম্নম থেকে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। এছাড়া ৯ম ও ১০ম শ্রেনী থেকে আমাদেরকে বের করে দেয়। আমাদেরকে শ্রেনী কক্ষে প্রবেশ করতে দেয়নি এবং কোন ক্লাশও নেয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা বিদ্যালয় ক্যাম্পাশে বসে ছিলাম। পরে পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যান এসে আমাদেরকে ক্লাশে বসার সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরেন্দ্রনাথ সরকার শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীরা কোন ফি দিবেনা। ফি ছাড়াই পরীক্ষা দেবে। আমরা বলেছি অর্ধেক ফি দিয়ে পরীক্ষা দাও কিন্তু তারা কোন কথাই শোনেনি। আমরা তাদেরকে ক্লাশ থেকে বা কমনরম্নম থেকে বের করে দেয়নি। বরং ছেলেরাই মেয়েদেরকে কমনরম্নম থেকে ডেকে বের করে আন্দোলন শুরম্ন করতে থাকে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পরলে নিরাপত্তার সার্থে আমাদের লাইব্রেরীর মূল ফটকে তালা দিয়েছিলাম।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী বলেন,ক্লাশ থেকে বের করে দেয়ার কথা শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে বলেছে। অভিভাবকদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের আস্বাস দিয়ে বিকেল সাড়ে তিনটায় শিক্ষার্থীদের ক্লাশে ফিরে দিয়েছি।
রাণীনগর থানার ওসি মো: শাহিন আকন্দ বলেন,খবর পেয়ে সেখানে সাথে সাথে পুলিশ পাঠিয়েছি। বর্তমানে পরীস্থিতি শান্ত্ম রয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রম্নহুল আমিন বলেন, খরব পেয়ে প্রধান শিক্ষককে ফোন দিয়েছিলাম,কিন্তু শিক্ষার্থীদের ক্লাশ থেকে বের করে দেয়া বা বা আন্দোলনের কথা আমাকে বলেনি। অভিভাবকদের সাথে প্রধান শিক্ষকের একটু ঝামেলা হয়েছিল সেটা সমাধান হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক আমাকে জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হুসেইন বলেন,মোবাইল ফোনে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে খবর পেয়ে সেখানে যেন আইনশৃংখলার অবনতি না হয় সে জন্য পুলিশ পাঠিয়েছি এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ আমার একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছি। তাদের নিকট থেকে বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



Comments are closed.

      আরও নিউজ

ফেসবুক পেইজ