আজ ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ



রাণীনগরে বিষাক্ত ধোঁয়ায় বাগানের ৪০টন পেয়ারা নষ্ট

 

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরে সিসা তৈরি কারাখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় বাগানের প্রায় ৪০ টন পেয়ারা নষ্টের অভিযোগ ওঠেছে। এছাড়া ওই এলাকায় গরুও মারা যাওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। উন্মুক্ত স্থানে অবৈধ কারখানার ধেঁায়ায় পরিবেশ দূষন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিলেও কার্যত কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেননা বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসি। ঘটনাটি উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের ২নং স্লুইচ গেট এলাকায়।
জানাগেছে,রাণীনগর-বান্দাইখাড়া প্রধান সড়কের ২নং স্লুইচ গেটের পাশের্ব উন্মুক্ত কারখানা স্থাপন করে সীসা তৈরির কাজ করে আসছে একটি চক্র। বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরাতন ব্যটারী কিনে গাড়ী ভর্তি করে নিয়ে এসে সন্ধ্যার পর থেকেই সারা রাত চলে আগুনে পুড়িয়ে সিসা তৈরি কাজ। তবে সকাল হওয়ার আগেই সম্পন্ন কার্যক্রম শেষ করে চলে যান তারা। ব্যাটারীর আ্যাসিডের বিষাক্ত ধেঁায়া এবং দূর্গন্ধে পরিবেশ মারাত্বকভাবে দূষিত হয়ে পরছে। অভিযোগ ওঠেছে,পাশের্বই প্রায় পাঁচ হাজার বিভিন্ন ফলজ গাছের বাগান রয়েছে। বিষাক্ত ধেঁায়ার প্রভাবে এসব বাগানে ফল কালো হয়ে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া গাছপালার পাতা বির্বণ হয়ে মরে যাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন,কারখানার আশে পাশে স্থানীয়রা গরু চড়াতে এসে ঘাষ খাওয়ার পর ওই এলাকার প্রায় ৪টি গরুও মারা গেছে। তবে এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করেও কোন ফল হচ্ছেনা। এমনকি প্রসাশনের লোকজনও এব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। ফলে পরিবেশ ও চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং ক্ষতির মূখে পরেছেন এলাকাবাসী।
বাগান ও প্রজেক্ট মালিক আব্দুল কুদ্দুছ মন্ডল বলেন,তার জন্মস্থান রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভাতঘর পাড়া গ্রামে। তিনি ব্যবসা করার জন্য গত দুই বছর আগে এই এলাকায় এসে জমি কিনে এবং লিজ নিয়ে একই স্থানে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে ৯টি পুকুর খনন করে মাছ চাষ করে আসছেন। পাশা-পাশি পুকুর পার জুরে গড়ে তুলেছেন ফলজ বাগান। তার বাগানে প্রায় সাড়ে ১২শত থাই পেয়ারা,আড়াইশত আম,একশত বেদেনা,আড়াই হাজার লেবু এবং বেশ কিছু কলা গাছ রয়েছে। এসব গাছে ফল আসতে শুরু করলে ফল বড় না হতেই সিসা তৈরি কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ার প্রভাবে সবগুলো ফল কালো হয়ে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন,এপর্যন্ত ৪০ টনেরও বেশি পেয়ারা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া বেদেনা,আম,কলা,লেবুসহ বিভিন্ন জাতের লক্ষ লক্ষ টাকার ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকবার কারখানার মালিককে বলেও কোন ফল হয়নি।
কালিকাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেন বলেন,কারখানার পাশের্ব চরে ঘাস খাওয়ার কারনে তার একটি গরুও মারাগেছে। এছাড়া এই এলাকার আরো তিনটি গরু মারা গেছে।
(তবে কারখানার নিদিষ্ট মালিকের নাম বা খেঁাজ না পাওয়ায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি)
রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন,সিসা তৈরি কারখানার বিষাক্ত ধেঁায়ায় প্রচুর পরিমানে কাবোর্ণ থাকে। ফলে ধেঁায়ার প্রভাবে ফল কালো হয়ে পচে নষ্ট হয়ে যায়। ইতি মধ্যে আমি এই কারখানা বন্ধের জন্য থানার ওসি সাহেবকে বলেছি।
রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা:কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খঁান বলেন,সিসা তৈরির বিষাক্ত ধেঁায়ায় মানব দেহে স্বাসতন্ত্রে প্রদাহ এবং ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। এছাড়া পশু-পাখি এবং গাছপালার মারাত্বক ক্ষতি হয়ে থাকে।
রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন,ব্যটারী পুরে সিসা তৈরি কারখানার কথা শুনেছি। কারখানা বন্ধে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



Comments are closed.

      আরও নিউজ

ফেসবুক পেইজ