বুধবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি
বুধবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

রাজবাড়ীতে দেড়শ বছরের পুরনো মন্দির রক্ষার দাবী এলাকাবাসীর

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে দেড়শ বছরের পুরনো দুর্গামন্দির রক্ষায় পুকুরখানায় বন্ধের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামে ‘ডি কে সাহার বাড়ি দুর্গামন্দির’ এর সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণকারী নারায়ণ কুমার সাহা, মহাদেব সাহা, স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. ছালাম মণ্ডল ও মো. ইব্রাহিম সরদারসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণকারী নারায়ণ কুমার সাহা বলেন, দেড়শ বছর আগে আমার পূর্বপুরুষরা দুই ভাই দেবনাথ সাহা ও কেদার নাথ সাহা ২০ শতাংশ জমির ওপর এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। তারা দুই ভাই ছিলেন বড় চাল ব্যবসায়ী। এছাড়াও কলকাতার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের বিভিন্ন ব্যবসা ছিল। দুই ভাইয়ের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে তারা মন্দিরটির নামকরণ করেন ‘ডি কে সাহার বাড়ি দুর্গামন্দির’। এখনও প্রতিবছরই এই মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সারাবছরই এখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা আসেন।

তিনি বলেন, মন্দিরের এই দাগে মোট দুই একর ৬৩ শতাংশ জমি রয়েছে। এরমধ্যে এক একর ৩০ শতাংশ জমি স্থানীয় রওশন আরা বেগমের, ৮৮ শতাংশ মো. ইব্রাহিম সরদারের এবং ৪৫ শতাংশ জমি আমার ও আমার ছোটভাই মহাদেব সাহার। জমিটি বন্টননামা করা নেই। আমাদের চারজনের এজমালি সম্পত্তি এটি। সম্প্রতি মন্দিরের কোলঘেঁষে এক একর পতিত জমিতে পুকুর কাটার উদ্যোগ নেন রওশন আরা বেগম।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে গত ২৩ জানুয়ারি তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পুকুর খননের অনুমতিও আনেন। এখানে পুকুর খনন করা হলে মন্দিরটি ভেঙে পুকুরে বিলীন হয়ে যাবে। যে কারণে গত ১০ মার্চ আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে পুকুর খননের অনুমতি বাতিলের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করেছি। এই সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে আবারও দাবি জানাচ্ছি, মন্দিরের পাশে পুকুর খননের অনুমতি বাতিল করে ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটি যেন রক্ষা করা হয়।

মোঃ ইব্রাহিম সরদার বলেন, এই দাগে আমাদের চারজনের জমি রয়েছে। এটি এজমালি সম্পত্তি। তাছাড়া এই জমি নিয়ে আদালতে পেনশন মামলা চলমান রয়েছে। এই জমিতে রওশন আরা বেগম কিভাবে পুকুর খনন করতে চান। তারচেয়ে বড় কথা এখানে দেড়শ বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী মন্দির রয়েছে। পুকুর খনন করা হলে মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা পুকুর খননের অনুমতি বাতিলের দাবি জানাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম শেখ বলেন, মন্দিরের পাশে পুকুর খনন করা হলে ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটি ভেঙে পড়ার পাশাপাশি এলাকার মানুষের যাতায়াতেও সমস্যা হবে। কারণ যেখানে পুকুর খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেখান দিয়ে এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। তাই স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমিও এই পুকুর খননের অনুমতি বাতিলের দাবি জানাই।

সম্পর্কিত