মঙ্গলবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি
মঙ্গলবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

রাজবাড়ীতে খাল পুনঃখননের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন, পরে নিজেরাই খনন শুরু

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি ॥

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের মোহনপুর বিল এলাকায় প্রায় ৪ হাজার একর জমিতে ফসল আবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা। পানি নিষ্কাশনের খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাট, পেঁয়াজ, রসুন, গম ও জব চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষিকাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে পাঁচটি গ্রামের — ভান্ডারখোলা, বড়বাংলাট, কালিনগর, পাটবাড়িয়া ও চৌবারিয়ায়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, শত বছর ধরে ওই খাল দিয়েই বিলের পানি প্রবাহিত হতো। কিন্তু গত বছর প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি খাল বন্ধ করে সেখানে বাড়ি ও দোকান নির্মাণ করায় তিনটি ফসল মৌসুম ধরে জমি পানির নিচে পড়ে আছে। এতে হাজারো কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

দীর্ঘদিন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কার্যকর পদক্ষেপ না পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে শত শত কৃষক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। আলহাজ আমেনা খাতুন বিদ্যাপীঠের সামনের সড়কে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং পরে নিজেদের অর্থায়নে ভেকু মেশিন এনে খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করেন।

এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেব্রত সরকার বলেন, “কৃষকদের দাবিটি যৌক্তিক। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়াই উত্তম।”

তবে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, “আলোচনা ছাড়াই জোরপূর্বক ভাঙচুর করে খাল খনন করা হচ্ছে, এতে অনেকের বাড়িঘর ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

এদিকে, কৃষক গোলাম মোস্তফা রাজা, হারুন অর রশীদ, বিল্লাল হোসেন, সামাদ আলীসহ অনেকে বলেন, “আমরা আলোচনার জন্য বহুবার গিয়েছি, কেউ কথা শোনেনি। তাই বাধ্য হয়েই নিজেদের জমি ও জীবিকার স্বার্থে খাল খনন শুরু করেছি।”

পাঁচ গ্রামের হাজারো কৃষকের আশা—খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে মোহনপুর বিলের পানি নিষ্কাশন হবে, আর তারা আবারও জমিতে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন।

সম্পর্কিত