আজ ১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ



ভাইয়ের কাছে বোনের খোলা চিঠি

প্রিয় ভাইয়া,
প্রায় দু’ঘন্টা যাবৎ কলম ধরে বসে আছি তোমাকে নিয়ে কিছু লিখবো বলে। বিশ্বাস করো কিছুতেই লিখতে পারছিনা। মনের ভিতর জমানো কথাগুলো মনের ভিতরেই লুকিয়ে আছে। কিছুতেই কলমে প্রকাশ করতে পারছিনা। তোমাকে নিয়ে কিছু লিখবো বলেই আজ আমার এই কলম ধরা।
ভাইয়া, তোমাকে ছোটবেলা থেকেই আমি ততটা কাছে পাইনি। আমার চারপাশের বন্ধুবান্ধবদের ভাই বোনের সাথে যেমনটা খুনসুটির সম্পর্ক তেমনটা আমার তোমার নেই। বলা যায় আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্কও নেই। ছোটবেলা থেকেই তুমি বাড়ির বাইরে থাকতে। থাকতে অনেক দূর। সেই ক্লাস থ্রি থেকে তুমি ঢাকায় থাকো। আমাদের সাথে খুববেশি দিন থাকা হয়ে ওঠেনি তোমার। এমনকি এখনও তুমি দূরে থাকো।
ভাইয়া, তোমার সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, অসুখ-বিসুখ, শখ-আহ্লাদ সম্পর্কেও আমি বেশি কিছু জানতে পারিনি কোনোদিন। মন চাইলেও তোমার সাথে খুনসুটিতে মেতে থাকা হয়নি কোনোদিন, তোমার সাথে হাতে হাত রেখে কোথাও ঘুরতে যাওয়াও হয়ে ওঠেনি কোনোদিন। অনেকটা ভয় পাই তোমাকে। কেন এই ভয় পাওয়া তা জানিনা। হয়ত এই ভয় পাওয়াটা শ্রদ্ধাবোধ থেকেই আসে।
অনেকদিন আগের কথা। কোনো এক রোজার ঈদ হবে। তুমি হঠাৎ অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলে। তোমার অনেক জ্বর আর ঠান্ডা লেগেছিল। এর আগে আমি তোমাকে এতটা অসুস্থ দেখিনি। তোমার সেদিন এতটা জ্বর এসেছিল যে, আমি পাশের ঘর থেকে টের পেয়েছিলাম যে তুমি অনেক কাতরাচ্ছ। আমি উঠে এসে দেখি তোমার গাঁ জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। আমি সেদিনই প্রথম তোমাকে এত অসুস্থ দেখেছিলাম। আর সেদিনই প্রথম লক্ষ করেছিলাম তোমার চোখের জল। আমার কেন জানি মনে হয়েছিল এ চোখের জল শুধু অসুস্থতার জন্য নয়। আমি তোমাকে জলপট্টি করিয়ে পাশের ঘরে গিয়ে অনেক কেঁদেছিলাম ভাইয়া। তোমাকে বলা হয়নি কোনোদিন। সেদিন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম যেন তাড়াতাড়ি তোমাকে সুস্থ করে দেন। আমি সব সহ্য করতে পারি ভাইয়া, তোমার চোখের জল সহ্য হয়না আমার।
ভাইয়া, আমার জীবনের আদর্শ হিসেবে যেমনটি আব্বুকে মানি তেমনটা তুমিও। ছোট বেলা থেকেই তোমার প্রতিটি অর্জন আমাকে অনুপ্রেরণা জোগায়। তোমাকে নিয়ে যখন সবাই সুনাম করে তখন আমার অনেক আনন্দ হয়, গর্বে আমার বুক ভরে যায়।
কেন জানিনা আজকাল তোমার সুখ-দুঃখ আমি তোমার চোখের চাহুনি দেখে বুঝতে পারি। যদি বুঝতে পারি তুমি কষ্টে আছো আমার বুকের ভিতর কাঁদে ভাইয়া। আমি তোমাকে কখনো হারতে দেখতে চাইনা ভাইয়া। আমি চাই তুমি জীবনে অনেক অনেক দূর এগিয়ে যাও। তোমার সকল ইচ্ছা আল্লাহ পূরণ করে দিক। আমার ছোটবেলা থেকে আজ অব্দি আমার সকল আবদার তুমি পূরণ করোনি এমনটা হয়নি কখনোও। যখন যা চেয়েছি,যেমনটা চেয়েছি তুমি তাই দিয়েছ। এখনতো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহারটি আমাকে দিয়েছ। আমি সত্যি তোমার কাছে অনেক ঋণী ভাইয়া।
ভাইয়া, তোমাকে যে কথাটি কোনোদিন বলতে পারিনি বা কোনোদিন বলা হয়ে ওঠেনি, আজ বলছি- “আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি ভাইয়া”। হয়ত তোমাকে মুখে কখনো বলতে পারবনা, সামনাসামনি কখনো বলার সাহস হবে না তাই এখানেই বলছি- আমি সত্যিই তোমাকে অনেক বেশি ভালবাসি।
তোমার কাছে ছোটবোন হিসেবে একটা আবদার ভাইয়া, কথা দাও তুমি আজ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকমতো পড়বে। এমন কোনো কাজ করবেনা যাতে তোমাকে কাঁদতে হয় বা চোখে জল আসে। তোমার চোখের জল আমি সইতে পারিনা ভাইয়া।
আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত দান করুক। সকল দূর্গম পথ তোমার জন্য হোক সুগম। পৌঁছে যাও তুমি তোমার স্বপ্নের রাজ্যে।
তোমার জন্মদিনে আমার পক্ষ থেকে এই খোলা চিঠিটি তোমার জন্য। “শুভ জন্মদিন ভাইয়া।”
ইতি
তোমার আদরের ছোট বোন
“তানিয়া বুড়ি”



Comments are closed.

      আরও নিউজ

ফেসবুক পেইজ