বৃহস্পতিবার, ২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন বর্তমান চেয়ারম্যান

আব্দুল লতিফ সরকার,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাচনে সুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।সব শ্রেনীর মানুষের মন জয় করায় কামরুজ্জামান সুজনের বিপক্ষে প্রার্থী হতে সাহস পাচ্ছে না কেউ ই।দল এবং মতের উর্দ্ধে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা সুজন দিন রাত একাই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন,বিরামহীন সাধারন মানুষের কাছে ছুটে যাওয়ায় লালমনিরহাট সদর উপজেলায় একক প্রার্থী কামরুজ্জামান সুজন।

৬ষ্ঠ তম উপজেলা নির্বাচনে জনপ্রিয়তায় সুজনের ধারে কাছে নেই কেউ,সুজনের বিপক্ষে ভোটে লড়াই করার প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না,মাঠ পর্যায়ে আাকাশ চুম্বি জনপ্রিয়তা থাকায় অন্যরা সাহস পাচ্ছেনা ভোট যুদ্ধে নামতে,শেষ মুহুর্ত্যে অন্য কেউ প্রার্থী হলেও সুবিধা করতে পারবে না বলে মনে করেন সাধারন ভোটার গন।ইতিমধ্যে সাধারন ভোটার সুজনের জন্য মুখ খুলতে শুরু করেছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার নির্বাচন আগামী ২৯শে মে অনুষ্ঠিত হবে,মোট ভোটারের সংখ্যা ০২ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৪ জন।লালমনরহাট সদর উপজেলা সহ ১১২টি উপজেলার নির্বাচনী তফশীল ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঘোষনা করেছে।আগামী ০২রা মে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করার শেষ দিন,০৫ মে মনোনয়ন জমা প্রদান, ০৬ মে থেকে ০৮ মে আপলি গ্রহন এবং ১১ মে আপিল নিস্পত্তির শেষ দিন,১২ই মে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন,১৩ই মে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে,২৯মে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার নির্বাচন দ্বার গোড়ায় কড়া নাড়লেও বর্তমান চেয়ারম্যান ব্যাতীত দৃশ্যমান প্রতিদ্বন্দ্বী কোন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে না।ভোটের মাঠে নেই কোন উত্তাপ, ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও চেয়ারম্যান পদে নেই উল্লেখ যোগ্য কোন প্রার্থী।দিন রাত চষে বেড়াচ্ছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন। সুজন সদর উপজেলার মানুষের মাঝে এতটাই জনপ্রিয় আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে তার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে বিজয় অর্জন সহজ নয় ভেবেই প্রার্থী হবার সাহস পাচ্ছেনা কেউ।সম্ভবনা রয়েছে সারাদেশে একমাত্র বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে রেকর্ড করতে পারেন কামরুজ্জামান সুজন।

বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন ২০১৮ সালের ১০ই মার্চ নির্বাচিত হবার পর থেকে দিন রাত মানুষের জন্য ছুটে বেড়িয়েছেন। ঝড়,বৃষ্টি, বন্যা,খরা,করোনা,কোন কিছু আটকাতে পারেনি তরুন এই জনপ্রতিনিধিকে।নির্বাচিত হবার পর একটি মুহুর্ত্য নষ্ট করতে চাননি,যখন যেখানে যে অবস্থায় মানুষ স্মরন করেছে সুজনকে, তখনই তাদের কাছে ছুটে গিয়েছেন,ব্যাক্তি জীবনে নিরহংকারী এবং সদালপী মানুষটি খুব সহজেই মানুষকে আপন করে বুকে টেনে নেওয়ায় সদর উপজেলার মানুষ আপন করে নিয়েছে সুজন কে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট যুদ্ধে নামলেও নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নজরুল হক পাটোয়ারী ভোলাকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে।শপথ নিয়ে চেয়ারে বসেই প্রথম দিন ঘোষনা দেন সাধারন মানুষের জন্য সদর উপজেলা পরিষদ উন্মুক্ত, উপজেলা কার্যালয়ে কোন ফাইলে এক টাকা ঘুষ লেনদেন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারী উচ্চারন করেন।ফলে সাধারন মানুষ উপজেলা পরিষদে তাদের কাঙ্খিত সেবা বিনা পয়সায় পাওয়ায় দারুন খুশী।বর্তমান চেয়ারম্যান সুজনের মেয়াদ কালে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, টিসিবি কার্ডের তালিকা শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে প্রনয়ন করেন, এসব কার্ড প্রনয়নে জনপ্রতি ৫/১০ হাজার টাকা লেনদেন হতো,তা থেকে সাধারন মানুষ নিস্কৃতি পাওয়ায় দারুন ভাবে প্রশংসিত হয়।প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং করে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে বয়স,আর্থিক স্বচ্ছলতা,কর্ম ক্ষমতা যাচাই করে কাজটি সম্পন্ন করেন।দ্বায়িত্ব নেবার এক বছর বাদেই অতিমারী কোভিডের কবলে পড়ে দেশ, কোভিড কালীন সময়ে করোনা আক্রান্ত পিতার কাছে সন্তান যখন মৃত্যুর ভয়ে যায়নি,ঠিক সে সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিটি করোনা আক্রান্ত রোগীর কাছে খাবার পৌছে দিয়েছেন, মৃতদেহ শ্মশানে পড়ে ছিল সৎকার করার মত কেউ ছিলনা,জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ,খরি, কাপড় সংগ্রহ করে নিজেই দাহ করে আলোচিত হন,তিস্তা ও ধরলা নদীর বন্যায় প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ যখন পানি বন্দি হয়ে পড়ে, মানবিক চেয়ারম্যান সুজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মধ্য রাত অবধি ডিঙ্গি নৌকায় খাবার পৌছে দিয়েছেন দুর্গম চরাঞ্চলে,এসব কারনে মানুষের মাঝে দাগ কাটে।

কোন কাজের বিনিময়ে এক কাপ চা কেউ যেন খাওয়াতে না পারে,সেই ব্রত অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে গিয়ে তার দ্বায়িত্বকালীন পাঁচ বছর সময়ে কোন অনুষ্ঠানে এক গ্লাস পানি পান না করায় আলোড়ন তুলেছেন চেয়ারম্যান সুজন।বিগত পাঁচবছরে সভা,সমাবেশ,ইসলামি জলসা, নামযজ্ঞ,কীর্তন, দর্গাপুজায় সর্বোচ্চ অংশগ্রহন কারী জেলার একমাত্র জনপ্রতিনিধি উপজেলা চেয়ারম্যান সুজন।তথ্য অনুযায়ী পাঁচবছরে এক হাজার ওয়াজ মাহফিল,২০০টি নামযজ্ঞ কীর্তন
১২০০ জানাযা নামায, অসংখ্য মন্দির পরিদর্শন করেছেন সুজন।দিন রাত মানুষের কাছে ছুটে যাওয়ায়,জনগনের জন্য নিবেদিত ভাবে কাজ করায়,তাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে বলে মনে করেন সাধারন ভোটাররা।

সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল চর খারুয়ার সাধারন ভোটার ষাটোর্ধ নজরুল ইসলাম জানান,উপজেলা চেয়ারম্যান সুজন বাবাজি আমাদের কাছে সে চেয়ারম্যান হিসেবে নয়, আমাদের সন্তান হিসেবে আমরা তাকে চিনি,আমরা যখন তাকে ডাক দিয়েছি তখনই তাকে পেয়েছি,উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে যতবার খারুয়ায় এসেছে আমাদের নিজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ততবার আসেননি,তাই আগামী নির্বাচনে খারুয়ার সব ভোট সুজন পাবে।

কুলাঘাট ইউনিয়নের চরখাটামারি এলাকার সাধারন ভোটার ফারুখ হোসেন বলেন,বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানের মত চেয়ারম্যান আমি ইতিপুর্বে দেখিনাই,তার হস্তক্ষেপে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা,টিসিবি কার্ড করতে কোন টাকা লাগেনি,এসব কার্ড করতে ৫/১০হাজার টাকা দিতে হতো আগে,এতেই সাধারন মানুষ তার প্রতি কৃতজ্ঞ,তাকে যখনই ফোন করেছি কোন প্রয়োজনে সেটা রাত বারোটা হলেও সে ফোন ধরে কথা বলতো।তার মত লোক বারবার চেয়ারম্যান হোক এটা আমরা চাই।

সম্পর্কিত