রবিবার, ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১১ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি
রবিবার, ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১১ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত জ্যামাইকার

বিশ্ব ডেস্ক: ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ জ্যামাইকা।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) তৃতীয় বৃহত্তম এ ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

জ্যামাইকার পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিটিতে বলা হয়, জাতিসংঘ সনদের মূলনীতির প্রতি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রগুলো নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাশাপাশি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করতে চায়।

এ বিষয়ে জ্যামাইকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামিনা জনসন স্মিথ বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে জ্যামাইকা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকেই একমাত্র পথ হিসেবে সমর্থন করে। এটিই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত নির্মূল, ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং ফিলিস্তিনিদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিতে সহায়ক হবে। তাই এ লক্ষ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়ে জ্যামাইকা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগুনোর জন্য গুরত্ব আরোপ করছে। এ সময় জ্যামাইকা সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান দেখতে চায় বলেও জানান তিনি।

আল জাজিরা বলছে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ‘অব্যাহত গভীরতর মানবিক সংকট’ সৃষ্টির আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ১৪২তম দেশ হিসেবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জ্যামাইকা।

এর আগে গত মার্চের শেষ সপ্তাহে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এক বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণায় ইউরোপের চার দেশ স্পেন, আয়ারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও মাল্টার প্রধানমন্ত্রীরা তাদের দেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত বলে ঐকমত্যে পৌঁছান। তারা সে সময় বলেন, যুদ্ধকবলিত এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের একমাত্র উপায় এটিই।

প্রসঙ্গত, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন (হামাস) একটি অভিযান চালিয়ে কয়েকজন প্রভাবশালী ইসরায়েলিকে বন্দী করে। এ অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল হামাসকে নির্মূলের নামে ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে স্থল অভিযান, বিমান হামলা ও ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে। এতে সেখানকার বহু বসতবাড়ি, মসজিদ, গির্জা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৩৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও এ সংঘাতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ত্রাণ পরিবহণে ইসরায়েলি বাধার কারণে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন সেখানে বসবাসরত বাসিন্দারা।

সম্পর্কিত