বুধবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি
বুধবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

ফরম পূরণের পুরো টাকা দিতে না পারায় এসএসসি পরীক্ষায় বসা হলো না রিপনের

রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃফরম পূরণের পুরো টাকা দিতে না পারায় প্রবেশপত্র পায়নি এসএসসি পরীক্ষার্থী হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান রিপন শেখ। যে কারণে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সে অংশ নিতে পারেনি। ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মেঘনা হাই স্কুলে। রিপন পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের মেঘনা গ্রামের অলিল শেখের ছেলে।

এ ঘটনার বিচারের দাবিতে আজ শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পরীক্ষার্থী রিপনের মা শিল্পী খাতুন।

ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, শিল্পী খাতুনের ছেলে রিপন শেখ এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তবে এসএসসির টেস্ট পরীক্ষায় রিপন তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। যে কারণে তাকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য ওই স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস চার হাজার টাকা দাবি করেন।

শিল্পী অন্যের বাসায় গৃহপরিচালিকার কাজ করেন। তার পরও তিনি সুদে টাকা ঋণ করে প্রধান শিক্ষকের হাতে-পায়ে ধরে দুই হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে আসেন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরুর আগের দিন বিদ্যালয়ের অন্য পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্র দেওয়া হলেও রিপনকে দেওয়া হয়নি।

পরীক্ষার্থী রিপন শেখ জানায়, প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুসের কাছে সে জানতে চায় তার প্রবেশপত্র নেই কেন? এ সময় আব্দুল কুদ্দুস তাকে বলেন, ‘তোমার ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার কথা মনে নেই।
’ ওই কথা শোনার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে পরীক্ষার্থী রিপন।

রিপনের মা শিল্পী খাতুন জানান, কাঁদতে কাঁদতে রিপন স্কুল থেকে বাড়িতে আসে। বিষয়টি শুনে তিনি ছুটে যান আব্দুল কুদ্দুসের কাছে। তবে কুদ্দুস তাকে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পাগল-ছাগল বলে স্কুল থেকে বের করে দেন। বর্তমানে তার ছেলে রিপন নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে এবং আত্মহত্যাসহ দূরে কোথাও চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
যে কারণে তার ছেলের সঙ্গে হওয়া এই অবিচারের বিচার চেয়ে তিনি পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, তিনি অল্প কিছুদিন হলো অবসরে গেছেন। রিপনকে কেন প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রিপন ও তার মা মিথ্যা কথা বলছে। তারা তাকে কোনো টাকা দেয়নি।’

পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘কোনো পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত কেন্দ্র ফি ও বোর্ড ফি বাবদ ২ হাজার ২০০ থেকে ২  হাজার ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।’

ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম পিন্টু জানান, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে হয়ে থাকে। তবে রিপন ফরম পুরনের টাকা জমা দিয়েছে কি না তার জানা নেই। তার বিদ্যালয় থেকে এবার ৭৭ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। যাদের মধ্যে ১৭ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে ইরেগুলার। তবে তিনিও পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের কথা অস্বীকার করেন।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

সম্পর্কিত