বৃহস্পতিবার, ২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

পাটগ্রামে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ তদন্তে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়

আব্দুল লতিফ সরকার,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃমুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (গেজেট) আবু হারিস মিয়া ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাটগ্রামে তদন্তে এসে বাদী-বিবাদীর সঙ্গে কথা বলেছেন।রবিবার (২১ এপ্রিল) সকালে পাটগ্রাম সোনালী ব্যাংকের অফিসে বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিনের স্ত্রী (মৃত)’র স্ত্রী ছামিনা খাতুন’র (৪৫) পূর্বের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ তদন্ত হয়। পরে সরেজমিনে গিয়েও প্রাথমিকভাবে এ তদন্ত করেন আবু হারিস মিয়া ও তার তদন্ত দল। তিনি জানান, আমরা তদন্তের পাশাপাশি যাবতীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করেছি। রিপোর্ট দাখিলের পর মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে পুর্বের একটি ঠিকানা নিয়ে এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্তৃক যে তদন্ত প্রতিবেদন চিঠির মাধ্যমে এসেছে, সে বিষয়ের সঠিকতা নিয়েও তদন্ত হতে পারে বলে তিনি অবগত করেন।উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অবৈধভাবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন লালমনিরহাট পাটগ্রাম উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন (মৃত)’র স্ত্রী ছামিনা খাতুন। তিনি তার অভিযোগ তুলে ধরে জানান, ‘আমার স্বামী একজন ভারতীয় তালিকাভূক্ত মুক্তিযোদ্ধা যার ভারতীয় তালিকা নম্বর ৪২৯৩৭। যুদ্ধের সময় তিনি সে সময়কার কালীগঞ্জ থানার আদিতমারীতে বসবাস করতেন। সেখানে তাঁর একজন স্ত্রী এবং দুই সন্তান ছিল। পরে তাঁর (জহির উদ্দিন) সাথে আমার বিয়ে হলে তিনি স্থায়ীভাবে পাটগ্রামের রসুলগঞ্জ এলাকায় বসবাস করা শুরু করেন। পরে আমরা ধবলসতীতে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হই। প্রকৃত

মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় তাঁর ভারতীয় তালিকার পাশাপাশি
বেসামরিক গেজেট নম্বর ১৪০৬ এবং লাল মুক্তিবার্তা ০৩১৪০৩০৩৫৫ নম্বর রয়েছে। যুদ্ধের পর যখন তিনি পাটগ্রামে আসেন তখন কিছুদিন রসুলগঞ্জ এলাকায় বসবাস করতেন। যে কারণে লাল মুক্তিবার্তায় তাঁর ঠিকানা রসুলগঞ্জ হয় এবং বেসামরিক গেজেট তৈরির সময় তিনি ধবলসতিতে থাকায় গেজেটে তাঁর ঠিকানা ধবলসতি হয়। ২০১২ সালে এ বিষয়ে থানা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত করেন এবং তাঁর মতামত মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন। বর্তমানে আমি এবং আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীর সন্তানেরা ভাগাভাগি করে
মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ভোগ করে আসছি। যার মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ০১৫২০০০২১১১। কিন্তু আমার এই এমআইএস নম্বরের বিপরীতে কেবলমাত্র বেসামরিক গেজেট নম্বর ১৪০৬ যুক্ত আছে। ভারতীয় তালিকা কিংবা লাল মুক্তিবার্তা নম্বরের কোনো উল্লেখ নাই। আমার স্বামীর লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ০৩১৪০৩০৩৫৫ ব্যবহার করে, শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় ভিন্ন জহির উদ্দিনের সন্তানেরা (৭ ছেলে-মেয়ে) সরকারি ভাতা উত্তোলন করে আসছে। যা সম্পূর্ণরূপে অন্যায় এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর শামিল। এই অবস্থায় আমি স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সেই সাথে আপনাদের কাছে এই প্রতারণার বিষয়টি জনসমক্ষে উপস্থাপন করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’

সম্পর্কিত