ডিসেম্বর ৮, ২০২২ ৭:৩৮ বিকাল



নওগাঁয় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজীর সময় ধরা খেলেন যুবলীগনেত্রী মমতাজ বেগম

বিশেষ সংবাদদাতা:

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌর শহরে মমতাজ বেগম (সাথী) নামের সাংবাদিক পরিচয়ে এক নারীকে চাঁদাবাজীর সময় গত বৃহস্পতিবার হাতে নাতে জনতা কর্তৃক আটকের পর থানা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।

জানা যায়, কথিত নারী সাংবাদিক মমতাজ বেগম (সাথী) “Channel 69 Tv” এর নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা হিসেবে মাস খানেক আগে দায়িত্ব পেয়েছেন। সাংবাদিক পরিচয়ে তিনি জেলার বিভিন্ন বেকারী, মিষ্টান্ন দোকান ও ফ্যাটকারিতে গিয়ে সঙ্গীয় জাকারিয়া হোসেন (৩০) ক্যামারাম্যান সহায়তায় অনিয়মের খবর প্রচারের হুকমি দিয়ে বহু দিন যাবত ধরে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৬/০৯/২০১৯ তারিখ বৃহস্পতিবার জেলার পত্নীতলা উপজেলার নজিপুরে মিষ্টান্ন দোকানে গিয়ে চাঁদাবাজী করার সময় তাদের ধরে পুলিশের নিকট উত্তেজিত জনতা তুলে দিলে থানা হেফাজতে নেন।

পরে পত্নীতলা থানা পুলিশ রহস্যজনক ভাবে রাত্রি সাড়ে ৮টার দিকে কথিত সাংবাদিক মমতাজ সাথী ও তাঁহার সহযোগি ক্যামরাম্যান জাকারিয়াকে ছেড়ে দেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মমতাজ বেগম (সাথী) জেলার রাণীনগর উপজেলা মহিলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলার দাউদপুর গ্রামের আশিকুজ্জামান (বিপ্লব) এর স্ত্রী এবং রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মমতাজ বেগমের স্বামী বর্তমানে প্রায় দুই বৎসর যাবত অস্ত্র ও মাদক মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

বিশেষ একটি সূত্রে জানা যায়, মমতাজের বিরুদ্ধেও একাধিক মানুষকে ব্লক মেইল করে মোটা অর্থ আদায়ের অভিযোগে কোর্টে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

নির্ভরযোগ্য আরো একটি সূত্র জানায়, ইতোপূর্বে চাঁদাবাজীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রমাণ থাকায় রাণীনগর প্রেস ক্লাব হতে মমতাজ বেগমকে গত ২০১৬ সালে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হয়।

বর্তমানে কথিত সাংবাদিক মমতাজ বেগম ও তার সহযোগি ক্যামরা পারসন নওগাঁ সদর উপজেলার ফারাদপুর গ্রামের আফজাল হোসেনের পুত্র জাকারিয়া হোসেন পার নওগাঁ শহরের আবাসিক হোটেলের পাশে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন।

পত্নীতলা থানার ওসি পরিমল কুমার চক্রবর্তী জানান, সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজীর অভিযোগে জনতা কর্তৃক মমতাজ বেগম ও তাঁর ক্যামরা পারসন জাকারিয়া কে পুলিশের হাতে তুলে দিলে ২৬/০৯/২০১৯ তারিখ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে থানা হেফাজতে রাখা হয়।
পরে ভুক্তভোগিরা আনীত চাঁদাবাজীর অভিযোগের মামলা না করায়- তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।



Comments are closed.

      আরও নিউজ