মঙ্গলবার, ৫ই মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ADVERTISEMENT

দৌলতদিয়া পাটুরিয়া অনুরোধ খননের পরও চ্যানেলটি সরু

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী ঃদেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বারখ্যাত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট। নদীর নাব্যতা সংকটে বিপাকে পড়তে হচ্ছে লঞ্চ, ফেরি ও বড় বড় লাইটার জাহাজগুলো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট। এমনকি এ নৌরুটে বারবার ঘটছে ফেরিডুবির মতো ঘটনাও। সাড়ে ৩ কোটি টাকার খনন কাজ করেও মিলছে না সমাধান। সরু চ্যানেলের কারণে ফেরি চলাচলে সময় ঘণ্টা অপচয় হচ্ছে। এতে ফেরির চলাচলের খরচ বাড়াসহ যাত্রীদের সময় ঘণ্টা অপচয় হচ্ছে। পদ্মা ও যমুনা এ দুই নদীর সমন্বয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ঘাট সচল রাখা, নদীপথের ড্রেজিং, পল্টুন মেরামত করে বিআইডব্লিউটিএ।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া, আরিচা-কাজিরহাট, নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ী এবং পাটুরিয়া-কাউলিয়া নদীপথে ৩৭ লাখ ঘনমিটার মাটি (বালি) ড্রেজিং করা হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের কাছে ডুবে যায় ফেরি আমানত শাহ। আর এ বছরের গত ১৭ জানুয়ারি ফের একই ঘাটের কাছে ৯টি পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে ডুবে যায় ফেরি রজনীগন্ধা। এ ঘটনায় ফেরির সহকারী মাস্টার হুমায়ুন কবিরের মৃত্যু হয়। যদিও ফেরিডুবির ঘটনায় মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সরেজমিন দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এ নদীপথে সাড়ে ৩ কোটি টাকার খনন কাজ হলেও নদীপথে বেশ কয়েকটি স্থানেই চ্যানেল সরু, অসংখ্য ডুবোচর জেগে উঠেছে। ফেরিগুলোতে পাড়ে আসতে হচ্ছে অন্তত ৬ কিলোমিটার বেশি ঘুরে। কারণ নদীর মাঝে জেগেছে চর। আবার তীব্র নাব্যতা সংকটের কারণে টানা দুই সপ্তাহ ধরে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটের কাছে আটকে আছে অন্তত ২৫টি পণ্যবাহী জাহাজ। দিনের পর দিন আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জাহাজের চালক ও শ্রমিকরা। বাড়ছে পণ্যের খরচও।

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার খনন কাজ করলেও এক শ্রেণির কর্মকর্তার পকেট ভারী হচ্ছে কিনা বিষয়গুলো ভালোভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।

এ সময় এমভি রুস্তম জাহাজের শ্রমিক আরজু খান বলেন, বাধ্য হয়ে জাহাজগুলো থেকে মালামাল নামিয়ে ছোট ট্রলার ও বাল্কহেডে করে গন্তব্যে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে আটকে থাকতে হচ্ছে দিনের পর দিন।

জাহাজ এমভি মায়ের দোয়ার মাস্টার (চালক) সোয়াইব হোসেন বলেন, প্রতিটি জাহাজ চলতে ১০ থেকে ১৫ ফিট পানি প্রয়োজন হলেও নদীতে চর জেগে ওঠায় বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে ৮ থেকে ১০ ফিট। যে কারণে আটকে যাচ্ছে জাহাজ।

উত্তর দৌলতদিয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ আক্কাছ আলী বলেন, এখানে আটকে থাকার কারণে ইউরিয়া সার, ভুট্টাসহ কৃষি পণ্যের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তা কৃষকের ঘাড়েই পড়বে।

বিআইডব্লিটিএ দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, বিআইডব্লিউটিএ বেশ কয়েকটি শাখা নদীপথে কাজ করে। নদীর ওপরে তার মানে ঘাট মেরামত পল্টুন ঠিক রাখা দেখভাল করি। বর্তমানে ঘাটে তেমন কোনো সমস্যা নেই। বিআইডব্লিটিএ আরিচা অঞ্চলের ড্রেজিংয়ের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মোঃ আক্কাছ আলী এবং আজগর আলী দুজনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোনটি রিসিভ করেননি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোঃ সালাহউদ্দিন বলেন, এ নৌরুটে বর্তমানে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। বর্তমানে নদীপথে অসংখ্য ডুবোচরের কারণে ফেরিগুলোকে ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচও বাড়ছে। যাত্রী ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

বিআইডব্লিটিএর নৌপথ সংরক্ষণ ও পরিচালক বিভাগের পরিচালক মোঃ শাহজাহান মিয়া বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথটি পদ্মা ও যমুনার সমন্বয়ে চলমান। পদ্মা ও যমুনা দুটি নদীই বালি উৎপাদন করে। একদিকে খনন করলে অন্যদিক স্বাভাবিকভাবেই ভরাট হয়ে যায়। এ মুহূর্তে নদীতে অন্তত ১০টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে খনন কাজ চলমান আছে। তৈরি হচ্ছে আরও একটি চ্যানেল। বিআইডব্লিউটিসির সঙ্গে আলোচনা করে নতুন চ্যানেলে ফেরি পরিচালনা করা হবে।

সম্পর্কিত