আজ ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ



তিস্তার বন্যায় কুড়িগ্রামে পানি বন্দী ২৬টি গ্রাম

কল্লোল রায়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে গত দু’দিনের অব্যাহত মাঝারী বৃষ্টিপাত। অপরদিকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ডালিয়ায় তিস্তা নদীর ব্যারেজের সব গেট খুলে দেয়ায় তীব্র গতিতে বেড়েছে তিস্তা নদীর পানি ও ভাঙ্গন। এতে করে জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন ও উলিপুর উপজেলার থেতরাই, দলদলিয়া, গুনাইগাছ সহ বজরা ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম পানি দ্বারা প্লাবিত হয়ে পড়ায় এসব গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরে ও বাহিরে বন্যার পানি থাকায় অনেকেই রাতে অাতঙ্ক নিয়ে চৌকিতে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে রাত জেগেছেন। এসব এলাকার অনেক পরিবারের চুলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করতে না পারায় সকাল থেকে অনাহারে অর্ধাহারে রয়েছেন তারা। শিশু ও বৃদ্ধরা ঝুকি নিয়েই পানিতে চলাচল করছেন। এসব অঞ্চলের অনেক পরিবারের গবাদি পশু গুলো নৌকায় করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ নিরাপদ স্থানে রেখেছেন থেতরাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রেখেছেন তারা।

থেতরাই ইউনিয়নের চর গোড়াইপিয়ার এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জানান, গতকাল সকাল থেকেই হু হু তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছিল। পানিতে অনেক স্রোত চলমান রয়েছে। দুপুরের দিকে সে পানি অারও বৃদ্ধি পেয়ে নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়ে পড়ে এবং রাতেই অামার বাড়ি সহ চর গোড়াইপিয়ার এলাকার অন্তত ৬শ বাড়ীতে পানি প্রবেশ করেছে। ঘরে পানি থাকায় রাতে অাতঙ্ক নিয়ে চৌকিতে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে রাত জেগেছি। রাতে শুকনো বিস্কুট খেয়েছি। চুলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করতে না পারায় সকাল থেকে এখন পরিবার নিয়ে অনাহারে রয়েছি। শিশু ও বৃদ্ধ মা পানিতে চলাচল করায় তাদেরকে নিয়ে অাতঙ্কে রয়েছি। এলাকার অনেকেই গবাদি পশু গুলো নৌকায় করে থেতরাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রেখেছেন। নৌকা সংকটের কারনে অনেকেই গবাদি পশু নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে না পারায় এলাকার অন্তত সত্তুরটি পরিবারের গবাদি পশু গতকাল রাতে পানিতে রাত্রি যাপন করেছে। অামার মতো এলাকার অনেক বাড়ীর চুলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তারা রান্না করে খেতে না পারায় অনাহারে অর্ধাহারে রয়েছে।

উজানে ঢলে হঠাৎ বন্যা।  ছবি: উত্তরবঙ্গের সংবাদ

উলিপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অাবু সাঈদ জানান, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উলিপুর উপজেলার থেতরাই, দলদলিয়া, গুনাইগাছ সহ বজরা ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি এসব পরিবারের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যা অাজকেই পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হবে। অামরা এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলতেছি।

 

রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করিম জানান, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ায় এসব গ্রামের অন্তত ৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অাব্দুল্লাহ অাল মামুন জানান, বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে অাসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে অাজ পানি নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। নদী ভাঙ্গন রোধে এলাকাগুলোতে জরুরী ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি ।



Comments are closed.

      আরও নিউজ

ফেসবুক পেইজ