রবিবার, ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১১ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি
রবিবার, ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১১ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিব্র তাপদাহ ও পানি সংকটে অতিষ্ঠ জনজীবন

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃচাঁপাইনবাবগঞ্জের সর্বত্র চলছে তীব্র তাপদাহ ও বিশুদ্ধ পানি সংকট। গত ২৪ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচন্ড গরমে জেলার সর্বত্র জনজীবন যেন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। নারী-বৃদ্ধ ও শিশুরা প্রচন্ড গরম সহ্য করতে না পেরে নানাভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

সোমবার জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড রোদ ও গরমে রাস্তা-ঘাটে মানুষের যাতায়াত অনেকাংশে কমে গেছে। ভ্যাপসা গরমে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়েছেন বেশ বিপাকে। পেটের ধান্ধায় প্রচণ্ড গরমে কাজে বের হতে হচ্ছেন এদের অনেকে। এদের যেন কষ্টের শেষ নেই।

প্রচণ্ড রোদে দুপুরে রাস্তায় লোকজনের চলাফেরা না থাকায় রিক্সা-অটোরিক্সা চালকদের যাত্রী ছাউনি ও গাছের ছায়ায় বসে থাকতেও দেখা গেছে । গরমে অতিষ্ঠ অনেকেই হাট-বাজারে ঠাণ্ডা শরবত ও আখের রসে তৃষ্ণা মেটাচ্ছে। বাজারে ডাবের দাম সাধ্যের মধ্যে না থাকলেও অনেকেই ডাবের পানি পান করে তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা বলছেন, অসহনীয় গরম ও তিব্র খরায় আমের গুটি গুলো ঝরে পড়ে যাচ্ছে, পানির লিয়ার অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় , সাধারণ পাম্প দিয়ে গাছের গোড়ায় পানি দিতে পারছিনা এক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি না হলে আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হবে। এদিকে মাঠ ঘুরে দেখা গেছে,তিব্র তাপদাহে আখ খেত সহ বিভিন্ন ফসল পুড় শুকিয়ে যাচ্ছে।

শিবগঞ্জে এক রিকশা চালক বলেন, সকালে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। দুপুর পর্যন্ত তেমন কামাই-রোজগার করতে পারিনি। গরমের কারণে রাস্তায় তেমন কোন যাত্রী বের হচ্ছে না।

এদিকে জেলার নাচোল, গোমাস্তাপুর ও শিবগঞ্জে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট । বিশেষ করে শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুকুরিয়া ইউনিয়ন, মোবারকপুর ইউনিয়ন, চককীত্তি ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে, বিভিন্ন ধরনের অসুখ, এতে করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হিমশিম খাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসার ডাঃ এস এম মাহমুদুর রহমান জানান, প্রচান্ড তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে বৃদ্ধ ও শিশুরা বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে। অনেকেই গরম-ঠাণ্ডায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরকে পরিমিত বিশুদ্ধ পানি, বিভিন্ন ফল-মুলের জুস খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরেই দিনের তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে বলেও আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত