বুধবার, ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি
বুধবার, ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

গাড়ীর মবিলের সুত্রধরে খুনি সনাক্ত রাজবাড়ীতে ভোট কেন্দ্র পাহাড়ায় থাকা গ্রাম পুলিশ হত্যার ঘটনায় ১জন গ্রেপ্তার, চোরাই ছাগল ও অটোবাইক উদ্ধার

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ীঃদ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার চর আড়কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র নিরাপত্তা মূলক ডিউটি করাকালে গ্রাম পুলিশ রনজিৎ কুমার দে কে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলার চর আড়কান্দি গ্রামের শিবেন্দ্রনাথ দের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ জড়িত মূল আসামী মুক্তার শেখ (২৮) নামে এক চোরকে গ্রেপ্তার করেছে। মোক্তার ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার ঝাউকাঠি গ্রামের আজিদ শেখের ছেলে। পুলিশ চোরাই ছাগল ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অটোবাইক উদ্ধার করেছে।

শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জি.এম. আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সুপার জি.এম. আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত ৬ জানুয়ারী ভোট কেন্দ্র পাহাড়ায় থাকা গ্রাম পুলিশ রনজিৎ কুমার দে কে রাত ৩ টা থেকে ভোর ৫ টার মধ্যে যেকোন সময়ে অজ্ঞাতনামা আসামীরা মাফলার দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্কুলের পেছনে মেহগনি বাগানের মধ্যে টয়লেটের পাশে ফেলে রাখে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃত লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে।
এ ব্যাপারে বালিয়াকান্দি থানায় গ্রাম পুলিশ সদস্যের স্ত্রী রিতা দে বাদী অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার জি.এম. আবুল কালাম আজাদ হত্যাকান্ডে জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামীদের দ্রুত সনাক্ত, তাদের গ্রেপ্তার ও মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কে নির্দেশ প্রদান করেন। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির ছায়া তদন্ত করে। বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মুকিত সরকারের তত্ত্বাবধানে বালিয়াকান্দি থানার এসআই মোঃ রাজিবুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত মূল আসামী মুক্তার শেখকে গ্রেপ্তার করেন।

পুলিশ সুপার জি.এম. আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্কুলের পাশের বাড়ী থেকে ছাগল চুরি করে ৩জন চোর। গ্রাম পুলিশ সদস্য রনজিৎ কুমার দে চোরদের হাতে নাথে ধরে ফেলে। চোরেরা তাকে ১০ হাজার টাকা দিতে চায় এবং নগদ ২ হাজার টাকা প্রদান করে। রনজিৎ টাকা না নিয়ে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করার কথা জানালে তাকে শ^াসরোধ করে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। তদন্তে অটোবাইকের গাড়ীর মবিলের সুত্রধরে হত্যাকারী সনাক্ত করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে হত্যাকান্ডে সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামীদের নাম প্রকাশ করে। তার দেওয়া তথ্য মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক ও ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি ছাগল উদ্ধার করা হয়।l

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী পুলিশ সুপার মুকিত সরকার, ডিআই ও ১ বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী, জেলা গোয়েন্দা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান খান প্রমুখ।

সম্পর্কিত