আজ ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ



কুড়িগ্রামে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

জাহানুর রহমান খোকন, কুড়িগ্রাম:

অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রাম জেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পরেছে। ফলে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুকুমার নদের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চরম কষ্টে দিনযাপন করছেন বানভাসী মানুষ। কুড়িগ্রাম জেলার অনেক চরাঞ্চল ৩ দিন আগে পানিতে ডুবে গেছে। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বাড়ি-ঘর ডুবে গেছে। রান্না করার কোন ব্যবস্থা নাই। ছোট ছেলে-মেয়ে ও গবাদিপশু নিয়ে অনাহারে অধ্যাহারে দিনাতিপাত করছে চরের মানুষ।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চর গ্রামের মমেনা বেগম (৪০) বলেন, ঘরে পানি উঠেছে ৩ দিন হলো, ছোট শিশুকে নিয়ে রান্না করতে পারি না।ঘরে শুকনা খাবার নাই। এখন পর্যন্ত কেউ দেখতেও আসলো না। কেউ কোন প্রকার সাহায্য সহোযোগিতাও করছে না। এখন নৌকাতে মালামাল নিচ্ছি পশ্চিম পাড়ায় আত্মীয় বাড়ি সেখানে যাবো।
একই এলাকার আরমান আলী নামের একজন বলেন, বৃষ্টির কারণে আজ ৮-৯ দিন কোন কাজ কর্ম নাই বসে আছি। হাতে জমানো টাকা নাই। এতো পরিমাণ কষ্টে আছি ভাই আপনাদের কে বলার মত কোন ভাষা নাই। হাতে টাকা থাকলে দোকান থেকে কিছু কিনে খাওয়া যেতো।
এদিকে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুকুমারের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে সদর, উলিপুর,নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী, চিলমারী, রাজিবপুর রৌমারী ও রাজারহাট উপজেলার অন্তত লক্ষাধিক মানুষ।

ভেসে যাওয়া গৃহস্থালি আসবাবপত্র সংগ্রহ করছেন বানভাসী মানুষ- ছবি: উত্তরবঙ্গের সংবাদ

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ারচর, রলাকাটা, খেয়ার আলগা, বড়ুয়া, ঝুনকারচর, অষ্টআশির চর, চর ঘনশ্যামপুর ও মাঝিয়ালির চরের প্রায় ৫ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন জানান, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আগামী ২৪ ঘন্টায় নদ-নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার, দুধকুমারের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বিপদসীমার সামান্য নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে বন্যা বিরাজমান। ইতোমধ্যেই আট হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌচ্ছানো হয়েছে। কত হাজার মানুষ পানিবন্দি সে হিসাব আমাদের হাতে নাই। সঠিক হিসাব নেওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে। তারা হিসাব পাঠালে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা হবে।



Comments are closed.

      আরও নিউজ

ফেসবুক পেইজ