নভেম্বর ৩০, ২০২২ ১০:২৯ বিকাল



কুড়িগ্রামে সিনিয়র স্টাফ নার্স হাজেরার মৃত্যুতে তিনদফা দাবীতে সর্বস্তরের নার্সদের মানববন্ধন

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হাজেরা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশনে মৃত্যুর ফলে ডা: অমিত কুমার বসুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়েছে। সোমবার (২৮ অক্টোবর) হাসপাতালের সামনে তিনদফা দাবীতে মানববন্ধন করেছে সর্বস্তরের নার্সরা। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তারা চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী করা হয়।
মানববন্ধনে তিনদফা দাবীর মধ্যে রয়েছে, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক বিচার নিশ্চিত করার আগ পর্যন্ত ডা: অমিত কুমারকে আগামি ১২ ঘন্টার মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করতে হবে, আগামি ৭২ ঘন্টার মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন পূর্বক কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে এবং চিকিৎসাধীন একজন নার্স সহকর্মী গত তিনদিন যাবৎ মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎমাধীন থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণ জানাতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নার্সিং সুপারভাইজার আম্বিয়া পারভীন, সিনিয়র স্টাফ নার্স তিন্নি, দুলালী, মাসুদ রানা প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে লেবার ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স হাজেরা খাতুনের সিজার করেন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: অমিত কুমার বসু। সিজারে পূত্র সন্তান জন্মলাভ করে। কিন্তু প্রসুতির সিজারিয়ান সেকশনে বিøডিং বন্ধ না হওয়ায় এবং ইউরিন পাস না করায় ওইদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসক অমিত কুমার বসু তাকে দ্বিতীয়বার অপারেশন করেন। এরপরও বিøডিং বন্ধ না হওয়ায় রাত দেড়টায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। রংপুরে তাকে গাইনি ওয়ার্ডে না রেখে মেডিসিন ওয়ার্ডে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে রোববার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টায় রংপুরে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় হাসপাতালে বিক্ষুব্ধ নার্সরা ওইদিন চিকিৎসক ডা: অমিত কুমার বসুকে অভিযুক্ত করে তার অপসারণ এবং নবজাতকের ভরণ পোষণের দাবিতে শ্লোগান দেয়। দ্বিতীয় দিনে তারা তিনদফা দাবী পেশ করে।



Comments are closed.

      আরও নিউজ