বুধবার, ২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি
বুধবার, ২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

কুড়িগ্রাম কারাগারে বন্দীর সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার তিনগুণ বেশি কয়েদি। রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন বিচারাধীন মামলা এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে রাখা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৫৬২ জন বন্দি কারাগারে রয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৪২জন পুরুষ বন্দী এবং ২০ জন মহিলা বন্দী।

কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. শফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সকাল থেকে (রবিবার) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা ওয়ারেন্টসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গত ১ ও ২ নভেম্বর বিএনপি-জামায়াতের ১৫ নেতা-কর্মীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

কারা সূত্র জানায়, জেলা কারাগারে চারটি পুরুষ ও দুটি মহিলা ওয়ার্ড নিয়ে মোট বন্দি ধারণক্ষমতা ১৬৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ বন্দি ধারণক্ষমতা ১৪৫ এবং নারী বন্দি ধারণক্ষমতা ১৮। কিন্তু ১৯৮৭ সালে চালু হওয়া কারাগারটি সবসময়ই বেশি ধারণক্ষমতা বেশি,বন্দী। বন্দীর সংখ্যা বাড়লেও কারাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো হয়নি।

এ ছাড়া কারাগারে টয়লেটেরও অভাব রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ থেকে ১৫০ কয়েদির জন্য একটি মাত্র টয়লেট রয়েছে। আর চারটি ওয়ার্ডের কয়েদিদের জন্য রয়েছে মাত্র ২০ দিবা টয়লেট।

একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি বন্দি থাকায় ওয়ার্ডগুলোতে বসবাসের মানবিক পরিবেশ সংকটে রয়েছে। বন্দিরা গাদাগাদি করে অমানবিক জীবনযাপন করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামিনে মুক্তি পাওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘ভিতরে থাকা খুব কঠিন। এক ঘরে অনেক মানুষকে রাখে। শুয়ে থাকার মতো কিছু নেই। সত্য-মিথ্যা সব মামলার আসামিদের জেলে ভুগতে হয়।

আরেকজন বলেন, কারাগারের ভেতরে থাকার পরিবেশ নেই। ওয়ার্ডে শুয়ে কেউ ঘুরে দাঁড়াতে পারে এমন পরিস্থিতি নেই। গাদাগাদি থাকতে হবে। এমনকি আপনি যদি টয়লেটে যেতে চান আপনার একটি লম্বা সিরিয়াল লাগবে।

জেল সুপার শফিকুল আলম বলেন , কুড়িগ্রাম কারাগারে সবসময় ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দি থাকে। এ জন্য বন্দিদের একটু কষ্ট করে জীবনযাপন করতে হয়। তবে এখন শীত শুরু হওয়ায় তুলনামূলক কম সমস্যা হচ্ছে। বন্দীদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আশা করছি, আগামী বছর ভবনটি নির্মাণ করা হবে। তাহলে বন্দীদের আবাসন সংকট দূর হবে।

.

সম্পর্কিত