বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

কুড়িগ্রামে সমাজসেবায় অনুদান সিন্ডিকেটের মুলহোতা ক্লিনার দুলু

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:কুড়িগ্রাম সমাজ সেবা অফিসের ক্লিনার আশিকুর রহমান দুলু সামান্য বেতনে চাকুরী করলেও পেয়েছেন আলাদীনের চেরাগ। গরীব, অসচ্ছল রোগীদের জন্য সরাকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদানের টাকা প্রদানে জনপ্রতি ১৫ থেকে ৩০,০০০ টাকা নেয়ার মাধ্যমে কাজ করে দেন তিনি। বিগত দশ বছরে কয়েকশত লোকের কাছ থেকে কমিশন গ্রহন করে এরই মধ্যে করেছেন ছাদ ঢালাই বাড়ি, নামে বেনামে জমি ক্রয় এবং বন্ধক নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার নামে। ১৫০ সিসির পালসার মোটরাসাইকেলে চলাচল করা দুলু নিজেকে ফার্স্ট ক্লাস অফিসার মনে করে চলাফেরা করেন। কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুদানের আবেদন আটকিয়ে টাকা নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন অসহায় মানুষকে। টাকা না দিলে কাজ হবেনা বলে হুশিয়ারি দেন তিনি। এরই মধ্যে এলাকায় দুই তিনজন দালাল সেট করে তার মাধ্যমে প্রতি অর্থবছরে অনুদানের প্রায় ৭০-৮০ জন লোকের সুবিধা তিনি নিয়ে দেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায় সরকার ঘোষিত কয়েকটি রোগ যেমন, কিডনি, ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া, হার্টের সমস্যা এবং প্যারালাইজড রোগীদের ৫০,০০০ টাকা এককালীন দেয়ার কথা থাকলেও তার নিকট আত্মিয়দের এসব রোগের বাইরে থাকলেও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এই টাকা নিয়ে দেন তিনি। এসব অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত দুলুকে ফোন দিলে সে জানায় আমি ২০১৩ -১৪ সালে এই কাজে জড়িত থাকলেও বর্তমানে করছিনা। সামান্য বেতনে চাকুরী করে হঠাত বাড়ি গাড়ি জমির মালিক বণে গেলেন কিভাবে জানতে চাইলে সে জানায় আমি লোন করে বাড়ি গাড়ি করেছি, আপ্নারা দুদকের উপরে যদি কোন সংস্থা থাকে তাকে আনলেও আমার কিছুই করতে পাবেন না বলে দাম্ভিকতা প্রকাশ করেন। এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তার নিজ গ্রামের ভুক্তভোগী শামসুল হক (৬০) এর কাছে জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান আমার অনেকদিন যাবত কিডনির সমস্যা, কাজ করে খেতে খুবই অসুবিধা হয়, আমি সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন জমা দিতে গেলে জনৈক দুলু আমার কাছে দশ হাজার টাকা দাবি করে। আমি খুবই অসহায় টাকা দিতে পারবনা বললে সে আমার আবেদন ফেরত দেয়। পরে আমি আমার মেয়ের জামাইয়ের কাছে অনেক কষ্টে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে দুলুকে দিলে সে প্রথমে রাজি হয়না,পরে হাত পা ধরে অনেক অনুরোধ করলে আমার আবেদন টি জমা নেয়। আমি চাই সরকার দুলুর মত দালাল দের কে এসব হয়রানি বন্ধ করার ব্যবস্থা করুক। একই গ্রামের মো: আমির উদ্দিন জানান, আমার মেয়ে জামাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়, পারিবারিক অস্বচ্ছতার জন্য তার চিকিৎসা ঠিকমত করাতে পাচ্ছিল না,পরে সমাজসেবায় অনুদানের জন্য আবেদন করতে চাইলে সমাজ সেবার ক্লিনার আমাদের কাছে আগেই ২০,০০০ টাকা দাবি করে, আমরা ২০,০০০ টাকা দিতে পারিনি জন্য আর কাগজ জমা নেয়নি, পরে চিকিৎসা অভাবে আমার জামাই মৃত্যু বরন করে। আমি চাই দূর্নীতিবাজ দুলুর কঠিন শাস্তি হোক। মোগলবাসা ইউনিয়নের আরেক ভুক্তভোগী তারেক বলেন আমার নানী দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ থাকায় সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করলে জনৈক আশিকুর রহমান দুলু আমার কাছে ২০,০০০ টাকা দাবী করে আমি দিতে পারবনা বললে সে আমার নানীর কাগজ ফেরত দেয়, পরে আমি ধার দেনা করে ১০,০০০ টাকা দিলে সে আমার আবেদন জমা নেয়। তিনি বলেন দুলু অনেক বছর যাবত টাকার বিনিময়ে এই কাজ করে আসছে, সে এখন অনেক টাকার মালিক। এদিকে আরেক ভুক্তভোগী তাকে টাকা না দিয়ে সরাসরি অফিসে আবেদন জমা দিলে সে জানায় আমাকে টাকা না দিয়ে কাগজ জমা দিলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বললেও কাজ হবেনা! ক্লিনার আশিকুর রহমান দুলুর অবৈধ অর্থ এবং দূর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, আজ থেকে ৫ বছর আগেও এই দুলু একটি খরের ঘরে খুবই কষ্টে জীবনধারণ করলেও এই কয়েকবছরে সমাজসেবায় বিভিন্ন মানুষের টাকার বিনিময়ে কাজ করার মাধ্যমে সে বাড়ি গাড়ির মালিক বনে গেছে। আমরা চাই সরকার সুষ্ঠু তদন্ত করে তার আয়ের উৎস কি তা প্রকাশ করুক।
এদিকে এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে কুড়িগ্রাম জেলা সমাজসেবার পরিচালক রোকনুল ইসলাম বলেন, আমিও তার নামে একাধিকবার অভিযোগ পেয়েছি, সে রাজস্ব খাতে থাকলে অনেক আগেই বদলি করার ব্যবস্থা নিতাম, যেহেতু সে আউটসোর্সিং কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত, আমি কোম্পানির সংগে কথা বলে দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।

সম্পর্কিত