সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ADVERTISEMENT

কবি আবুবকর সিদ্দিকের ইন্তেকাল

 

রুশাইদ আহমেদ, নিজস্ব সংবাদদাতা: বিশিষ্ট কবি, ঔপন্যাসিক, ছড়াকার, গল্পকার ও সাহিত্য সমালোচক আবুবকর সিদ্দিক (৮৭) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।) বৃহস্পতিবার ২৮ ডিসেম্বর খুলনার সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভোর পৌনে ছয়টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি ৫ মেয়ে ও ১ ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মেয়ে বিদিশা সিদ্দিক তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। গত বুধবার ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আবুবকর সিদ্দিক ১৯৩৪ সালের ১৯ আগস্ট বাগেরহাট জেলার গোটাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃনিবাস একই জেলার বৈটপুর গ্রামে। পিতা মতিয়র রহমান পাটোয়ারী সরকারি চাকরিজীবী হওয়ার তার চাকরিসূত্রে ১৯৩৫ সালে তিনি হুগলি শহরে চলে যান। পরে ১৯৪৩ সালে যান বর্ধমানে। ১৯৪৬ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে থাকাকালীন আবদুস সাত্তার সম্পাদিত ‘বর্ধমানের কথা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা।
আবুবকর ১৯৫২ সালে বাগেরহাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৫৪ সালে বাগেরহাট পিসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং একই কলেজ থেকে ১৯৫৬ সালে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৫৮ সালে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি চাখার ফজলুল হক কলেজ, দৌলতপুর বিএল কলেজ, কুষ্টিয়া কলেজ, বাগেরহাটের পিসি কলেজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন। ১৯৯৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে অবসর নেন তিনি।
তাঁর রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো: ‘ধবল দুধের স্বরগ্রাম’ (১৯৬৯), ‘বিনিদ্র কালের ভেলা’ (১৯৭৬), ‘মানুষ তোমার বিক্ষত দিন’ (১৯৮৬)। এ ছাড়াও তিনি ‘জলরাক্ষস’ (১৯৮৫), ‘খরাদহ’, ‘একাত্তরের হৃদয়ভস্ম’, ‘বারুদপোড়া প্রহর’ (১৯৯৬) উপন্যাস লিখেছেন। তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থের সংখ্যা ১০টি। সাহিত্যে অবদানের জন্য কবি আবুবকর সিদ্দিক বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ কথাশিল্পী সংসদ পুরস্কার, বঙ্গভাষা সংস্কৃতি প্রচার সমিতি পুরস্কার (কলকাতা), খুলনা সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেন।

সম্পর্কিত