শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ADVERTISEMENT

এনায়েতপুরে শিশু ধর্ষন, লম্পট সহ ৪ জন কারাগারে, ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ-পুত্তলিকা দাহ

সোহেল রানা, চৌহালী সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার লম্পট সহকারী মহুরী হানজালা হোসেনের (২৩) ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সামবেশ করেছে এলাকাবাসি।

এসময় হানজালার পুত্তলিকায় জুতাপেটা ও দাহ করা হয়। রোববার দুপুরে এনায়েতপুর প্রেসক্লাব চত্বরে এসে ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে এলাকাবাসী। এসময় শিক্ষার্থী সহ আশপাশের গ্রামের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।

 

সরেজমিন, ধর্ষিতার পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরের দিকে এনায়েতপুর থানার গোপালপুর মসজিদ রোড় এলাকায় একটি মাদ্রাসায় পাঠ গ্রহন শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওই ছাত্রীকে একই গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে হানজালা জোরপূর্বক পাশের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষন করে। এসময় শিশুটি মারাক্তক অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা দিতে স্থানীয় মহিলা চিকিৎসক সেফালীকে নিয়ে আসে ধর্ষকের পরিবারের লোকজন। অবস্থা আরও বেগতিক দেখে শিশুটির বাড়িতে খবর দেয় ধর্ষকের চাচা শাহজাহান ও লুৎফর রহমান লতু। পরে গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সময় যতই যাচ্ছে ধর্ষিতা শিশুর অবস্থার অবনিত হলে উন্নত সেবার জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে ভর্তি করতে নিয়ে যাচ্ছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

 

এঘটনায় শনিবার রাতেই মেয়ের বাবা তাঁত শ্রমিক সাইদুল ইসলাম বাদি হয়ে লম্পট হানজালা সহ ৫ জনকে আসামি করে এনায়েতপুর থানায় ধর্ষন মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি হানজালা সহ বাবা ইব্রাহিম, চাচা লুৎফর রহমান লতু ও প্রতিবেশি বাড়ির মালিক রনজিদা খাতুনকে রোববার দুপুরে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

 

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রোববার দুপুরের দিকে বিক্ষুব্দ এলাকাবাসি মসজিদ রোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে এনায়েতপুর প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে সমাবেশে করে। পরে ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে এনায়েতপুর থানা সড়কে পুনরায় মিছিল করে শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ।

 

এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, ধর্ষনের ঘটনায় মামলা দায়েরের পরই অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় দোষীর সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।

সম্পর্কিত