নভেম্বর ৩০, ২০২২ ১০:২০ বিকাল



উলিপুরে ভুট্টাক্ষেত থেকে মূমুর্ষ অবস্থায় গৃহবধু উদ্ধার-আটক চার

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভুট্টাক্ষেত থেকে মূমুর্ষ অবস্থায় এক গৃহবধুকে উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। পরকিয়া সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাকে এলোপাথারী কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। বর্তমানে আশঙ্খাজনক অবস্থায় ওই গৃহবধু রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে, রোববার (০৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের সুরির ডারার পাড় গ্রামে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে পুলিশ চারজনকে আটক করেন। গৃহবধুর স্বজন ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বজরা ইউনিয়নের কালপানি বজরা গ্রামের আব্দুল গনি মিয়ার মেয়ে শাপলা বেগম (১৯) এর সাথে চার মাস পূর্বে পার্শ্ববতী তবকপুর ইউনিয়নের মিস্ত্রীপাড়া গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে নাজমুল হকের বিবাহ হয়। শনিবার (৪ এপ্রিল) গৃহবধু শাপলা বেগম পিতার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরদিন রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে শাপলা বেগম তার ননদের বাড়ি উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের চৌমহনী এলাকায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

ওই দিন ধামশ্রেনী ইউনিয়নের সুরির ডারার পাড় এলাকার আনজু আরা বেগম (২৫) ও তার স্বামী মাহফুজার রহমান (৪০) ওই গৃহবধুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই গৃহবধুর পথরোধ করে আনজু আরা বেগমসহ কয়েকজন মিলে ওই ইউনিয়নের সুরির ডারার পাড় এলাকায় নির্জন পুকুর পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে আনজু আরা বেগমের স্বামী মাহফুজার রহমানের সঙ্গে শাপলা বেগমের পরকিয়া সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তারা গৃহবধুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে পার্শ্ববতী ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রাখে। এ সময় গৃহবধুর আত্বচিৎকার শুনে এলাকাবাসী মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্খাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই কর্তব্যরত চিকিৎসক গৃহবধুকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় গৃহবধুর মা রাহেনা বেগম ছয় জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেন। আটককৃতরা হলেন, সুরির ডারার পাড় গ্রামের মাহফুজার রহমানের স্ত্রী আনজু আরা বেগম (২৫), রবিউল ইসলামের ছেলে মাহফুজার রহমান মুরাদ (২০), আমজাদ হোসেনের ছেলে রাসেল মিয়া (১৯) ও নুর ইসলামের ছেলে আঙ্গুর মিয়া (১৮)।

উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সফিকুল ইসলাম বলেন শাপলা বেগমের শরীরের বিভিন্নস্থানে গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্খাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় চার জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের সোমবার (০৬ এপ্রিল) বিকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে

সুত্র। ডাকনিউজবিডি



Comments are closed.

      আরও নিউজ