বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

উলিপুরের ৩০০ এর বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পালন হয়নি আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস

নিউজ ডেস্ক: স্যারেরা আমাগো পড়াই নাই। ক্যামনে জানবো ২১শে ফেব্রয়ারী,বিজয় দিবস,স্বাধীনতা দিবস কি। বিষয়টি অবিশ্বাস্য হলেও সত্যতা মিলেছে,মেকুরর আলগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আন্জুয়ারা বেগম,সুমন মিয়া ও শাপলা বেগমের সাথে কথা বলে। অনুসন্ধানে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ৩৬৫ শিক্ষা প্রতিষ্টানে শহীদ মিনার না থাকায় আর্ন্তজাতিক মাতৃ ভাষা দিবস পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রামঞ্চলের যে সব প্রতিষ্টানে শহীদ মিনার রয়েছে,সেখানে ও সঠিক ভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে না। সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান গুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ও কোন নজির মেলেনি। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৬৮টি। মাদরাসা ৫৬টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬১টি ও ২টি কলেজে শহীদ মিনার নাই। শহীদ মিনার না থাকা এ সব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় দিবস গুলোতে শুধু মাত্র অনানুষ্টানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে সিমাবদ্ধ। কোন আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে দেখা যায়নি বলে স্থানীয়রা জানায়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৭১টি, মাদরাসা রয়েছে ৫৬টি এবং কলেজ রয়েছে ১২টি। তার মধ্যে ১০টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১০ কলেজে শহীদ মিনার রয়েছে। মাদরাসা গুলোর একটিতে ও শহীদ নাই বলে জানান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতার দপ্তর সুত্রে জানা গেছে,২৬৮ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। বাকী ২৫৮ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় তারা শুধু পতাকা উত্তোলন করেন বলে জানান।

চরকলাকাটা জি,এম দাখিল মাদরাসার সুপার মো.মশিউর রহমান বলেন, তার প্রতিষ্টানে শহীদ মিনার নাই। দিবসটি পালনে পতাকা উত্তোলন করে র‌্যালী করা হয়েছে। শহীদ মিনার থাকলে ভালো ভাবে অনুষ্টান করা যেত।

দড়িকিশোরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নাই ফলে দিবসটি পালনে কোন উৎসাহ উদ্দিপনা পাই না। তাই পতাকা তুলে শেষ করি।

সাহেবের আলগা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর রহমান বলেন, চরে স্কলু গুলোতে শহীদ মিনার নাই। এমনতে এ সব স্কুলের শিক্ষকেরা আসে না স্কুল বন্ধ থাকে শহীদ দিবস পালন করবে কে?।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহতাব উদ্দিন বলেন, এখানে শিক্ষা প্রতিষ্টান অনেক। কিন্ত ১০টি বিদ্যালয় ও ১০ টি কলেজে শহীদ মিনার রয়েছে। বাকী প্রতিষ্টানে শহীদ মিনার না থাকায় আনুষ্টানিকতা হয় না,এটা খুব লজ্জার। তবে তিনি আগামীতে প্রতিটি প্রতিষ্টানে শহীদ মিনার নির্মানের উদ্দ্যোগ নেবেন ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন বলেন, ২৬৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১০টিতে শহীদ মিনার রয়েছে। তবে তিনি মুটো ফোনে সব প্রতিষ্টানকে দিবস পালনের চিঠি দিয়েছেন। অনেক প্রতিষ্টানে দিবসটি পালন হয় না বলে স্বীকার করেন। তবে এ ব্যাপারে কোন প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সব প্রতিষ্টানে শহীদ মিনার নির্মানের উদ্দ্যোগ নেবেন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)মো. আতাউর রহমান বলেন,বিষয়টি আমি অবগত নই। তবে খোজ খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ কিভাবে সব প্রতিষ্টানে শহীদ মিনার করা যায় তা নিশ্চিত করব।

সম্পর্কিত