আজ ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ



উদ্বোধনের অপেক্ষায় রযেছে নীলফামারীর সদর উপজেলার ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন

স্বপ্না আক্তার স্বার্ণালী শাহ্ নীলফামারী:
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে নীলফামারী সদর উপজেলার ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দৃষ্টি নন্দন নতুন ভবন। ভবন নির্মানের ফলে জরাজীর্ণ, টিনের ছাউনি দিয়ে গড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পেয়েছে নতুন রুপ। বিদ্যালয়ের নতুন ভবনগুলো হস্তান্তর হলে দূর হবে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট ও সৃষ্টি হবে শিক্ষার জন্য সুষ্ঠু সুন্দর ও গোছালো পরিবেশ।
৪ কোটি ৭৯লাখ ৭০ হাজার ৩৮টাকা ব্যয়ে এসব বিদ্যালয়ের ভবন নির্মানের কাজ বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। জেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সুজন কুমার কর এর প্রত্যক্ষ দিক নির্দেশনায় সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের নজরদারিতে ও সদর উপজেলা প্রকৌশলী নুর উদ্দিন আহমেদ’র তত্ত্ববধানে কাজের গুণগতমান বজায় রেখে বাস্তবায়িত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মানের কাজ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণে সরকারের উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও সাধারণ মানুষ।

সদর উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্র জানায়, ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মানের কাজ। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৪ থেকে ৫টি শ্রেণিকক্ষসহ বহুতল ভিত সম্পন্ন দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ৪৮ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮২ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় খালিসা পচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন। ৭৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৬৬ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয়ে সিংদই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন। ৭১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২৯ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় নগর দারোয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন। ৫৮ লাখ ৪৩ হাজার ৮২৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ১নং রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৭১ লাখ ৮৪ হাজার ২৮৭ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় আরাজী দলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৭৩ লাখ ৭২ হাজার ৯২২ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় দক্ষিণ চওড়া সবুজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৮১ লাখ ৩৮ হাজার ৬২৭ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় ২নং দারোয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন।’

সদর উপজেলা প্রকৌশলী নূর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচী (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় নয়টি বিদ্যালয়ের দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মান কাজের মধ্যে ইতোমধ্যে ৭টি ভবনের নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে ও দুইটি বিদ্যালয়ের নির্মান কাজ চলছে। জেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সুজন কুমার কর এর দিক নির্দেশনায় কড়া নজরদারির মাধ্যমে গুনগত মান নিশ্চিত করে নির্মান কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্মান কাজ সম্পন্ন হওয়া ৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। বাকি ছয়টি বিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। অতিশীঘ্রই এই বিদ্যালয়ের নতুন ভবনগুলো হস্তান্তর করা হবে।’

জানতে চাইলে জেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সুজন কুমার কর বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অবদান অনস্বীকার্য। বিদ্যালয়গুলো আধুনিয়কায়নের জন্য জরাজীর্ণ ভবন, টিনের ছাউনি দিয়ে গড়া ভেঙ্গে নির্মান করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ভবন। এই ভবনগুলোর মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে দূর হয়েছে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট ও সৃষ্টি হয়েছে বিদ্যালয়ে পাঠদানের সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ। যার ফলে দেশে শিক্ষার হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।’



Comments are closed.

      আরও নিউজ

ফেসবুক পেইজ