নভেম্বর ২৬, ২০২২ ২:০৯ বিকাল



আখেরি মোনাজাতে লাখো মানুষের ঢল

জাকির হোসেন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামে ধরলা নদীরতীরে আজ রোববার সকাল ৮ টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো চরমোনাই মাহফিলের নমুনায় ঐতিহ্যবাহী ৩ দিনব্যাপী ইজতেমা। এতে জেলার ৯টি উপজেলার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখো লোক ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহন করেন।

গত ১৯ ডিসেম্বর বাদ জোহর পীর সাহেব চরমোনাই এর উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয় এই ইজতেমার কার্যক্রম। উদ্বোধনী বয়ানে তিনি বলেন, “শুধু মাহফিলে আসলেই হবে না, সার্বক্ষণিক জিকিরে-ফিকিরে আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে হলে সবার আগে ঈমানকে মজবুত করতে হবে। কলবে আল্লাহর জিকির ধারণ করতে হবে। দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ভুলে গিয়ে জিকির এবং ঈমানের সঙ্গে চলাফেরা করলে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করা সম্ভব”

ইজতেমায় প্রধান ৭টি অধিবেশনের মধ্যে ৫টিতে বয়ান পেশ করেন পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম এবং নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়েখে চরমোনাই জুমার বয়ানসহ ৩টি অধিবেশনে বয়ান পেশ করেন।

আজ আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। মোনাজাতে দেশ, মানবতা, ইসলাম ও দেশের মানুষের শান্তি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করা হয়। এসময় তিনি বলেন, ‘মানুষ যখন আল্লাহ বিমুখ হয়ে যায় তখন মানুষের মধ্যে মানবতা থাকে না বিধায় তারা যে কোনো অপরাধে জড়িয়ে পরে। সুতরাং আমাদের সবার মধ্যে আল্লাহ ভীতি এবং আল্লাহ ও রাসূলের পূর্ণ আনুগত্য থাকতে হবে। আল্লাহ ও তার রাসূল (স.) মনোনীত দ্বীন ছাড়া অন্য কোনো তন্ত্রমন্ত্র কখনোই গ্রহণ করা যাবে না। যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের আদর্শ ছাড়া অন্য আদর্শ গ্রহণ করে কিংবা সে আদর্শের দিকে লোকদিগকে আহ্বান করে, নিশ্চয়ই তারা পথভ্রষ্ট।’

তীব্র ঠান্ডা আর হাড় কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য লাভের আশায় লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ বছর ইজতেমায় এসে মোট ২জন ব্যক্তি ইন্তেকাল করেন। এদের সবার জানাজা ইজতেমা মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পরে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।



Comments are closed.

      আরও নিউজ