মঙ্গলবার, ৫ই মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ADVERTISEMENT

অর্থাভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চিত

আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় ১ম আর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৫তম স্থান করে নেন কেশব চন্দ্র তাপস। কিন্তু অর্থাভাবে ক্লাসে যোগ দিতে পারছেন না মেধাবী এই তাপস। ফলে দুঃশ্চিনতা যেন পিছু ছাড়ছে না তার। অর্থের কারনে স্বপ্ন যেন ফিকে হয়ে আসছে তার।

তাপস লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের অনিল চন্দ্র ও অঞ্জলি রানীর ছেলে। বাবা অনিল চন্দ্র একজন দিনমজুর। আর মা অঞ্চলি রানী গৃহিণী হলেও ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি এক প্রকার শয্যাশায়ী। অঞ্জলি রানী বেস্ট ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ায় কিছুই করতে পারেন না। আর এ কারণে রান্না-বান্না কাজটিও সেরে থাকেন তাপস নিজেই। আর পিতা দিন মজুরী করে যা পান তা দিয়ে কোন মতে চলে তাদের দিন।

সম্প্রতি তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তাপসদের বাড়িতে দুটি টিনের ঘর। সেই ঘরেরও নেই ঠিকমতো বেড়া। এ কারনে তীব্র কুয়াশায় বিছনাসহ পরিধেয় কাপড়টিও ভিজে সাবাড় হয়ে যায়। গরুসহ তাপস একই ঘরে বাসও করেন। এমন দুঃখ-দুর্দশায় চলছে মেধাবী এই ছাত্রের জীবন কাহিনী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মা-বাবা ও নিজের স্বপ্নপূরণে অনেক কষ্ট করছেন তাপস। বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী এসএসসি ও এইচএইচসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এইচএসসি পাসের পর অর্থের অভাবে ভর্তি পরীক্ষার ফরমপূরণ, যাতায়াত আর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে না পারায় প্রতিবেশী কয়েকজনের সহায়তায় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন তাপস। যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন তাপস তার প্রত্যেকটিতে সুযোগ পান তিনি। এর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান অনুষদে প্রথম স্থান অধিকার করলেও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারেননি। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি অনুষদে ভর্তি হয়েছেন। তবে অর্থের অভাবে এখনো ক্লাসে যোগ দিতে পারেননি তাপস।

মেধাবী শিক্ষার্থী তাপস বলেন, মা বেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত। শুধু বাবার দিনমজুরীর আয় দিয়ে কোনমতে সংসার চলে। আমরা দুই ভাই ও এক বোন। অর্থের অভাবে মাঝ পথে বড় বোনের লেখাপড়া বন্ধ করে বিয়ে দেয়া হয়। মা কয়েক বছর ধরে বেস্ট ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে এক প্রকার শয্যাশায়ী। মায়ের দেখভাল সহ রান্না করতে হয়। এত কষ্টের মাঝেও লেখাপড়া বন্ধ করিনি। এলাকার কিছু বিত্তবানদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। এখন টাকার অভাবে আমি আর পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারবো কিনা জানিনা। পড়ালেখাটা বোধ হয় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহির ইমাম বলেন, তিন মাস আগে তপস আমার কাছে এসেছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে বলে। কিন্তু ভর্তির ফরম পূরণের টাকাসহ ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার মতো উপায় ছিল না। ওই সময় আমি তাকে উপজেলা প্রশাসন থেকে সামান্য কিছু সহযোগিতা করেছিলাম। ভবিষ্যতেও আমি তাপসের পাশে থাকবো।

সম্পর্কিত