বুধবার, ২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি
বুধবার, ২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

অর্জুন একটি ঔষধি গাছ

নিউজ ডেস্কঃ

ভেষজ সাহিত্যে অর্জুনের ঔষধি গাছের ব্যবহার অগণিত। কথিত আছে যে বাড়িতে একটি অর্জুন গাছ থাকলে ডাক্তার থাকা সমান। এর ঔষধিগুণ প্রাচীনকাল থেকেই মানব সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে শারীরিক শক্তি পুনরুদ্ধার এবং মনকে চাঙ্গা করার জন্য ভেষজ রস হিসাবে অর্জুনের ব্যবহার অনেক মহাকাব্য গ্রন্থে উল্লেখ আছে। তারপর সময় গড়ানোর সাথে সাথে অর্জুনের উপকারী দিকটি প্রকাশ পায়। নীচে অর্জুনের কিছু উপকারী দিক বর্ণনা করা হল

হৃদরোগ: অর্জুনের প্রধান ব্যবহার হৃদরোগ। অর্জুনের ছালের রস কো-এনজাইম Q-10 সমৃদ্ধ। এই কো-এনজাইম Q-10 হৃদরোগ এবং হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে। বাকলের রস রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। অর্জুনের ছালের রস পান করলে হৃৎপিণ্ডের পেশী শক্তিশালী হয় এবং হৃৎপিণ্ডের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ছালের ঘন রস দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে। ছালে রস না ​​থাকলে শুকনো ছালের গুঁড়া ১-২ গ্রাম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেতে হবে।

হাঁপানি: 12 গ্রাম দুধ বা পায়েসের সাথে অর্জুনের ছালের গুঁড়া মিশিয়ে খেলে হাঁপানি রোগীদের হাঁপানির স্থায়ী সমাধান হবে।

কাশিতে: প্রাচীন বৈদ্যরা অর্জুনের ছালের গুঁড়া, বাসক পাতার রস ব্যবহার করে শুকিয়ে রাখতেন। কাশি হলে মধু বা চিনির গুঁড়ার সঙ্গে ঘি মিশিয়ে খেতে দিতেন। এটি কাশির জন্য উপকারী ছিল।

মচকে যাওয়া বা ফাটা হাড়: অর্জুনের ছাল এবং রসুনের পেস্ট সামান্য গরম করে মচকে লাগালে সেরে যায়। তবে 2-3 গ্রাম অর্জুন ছাল চূর্ণ আধা চামচ ঘি এবং 1/2 কাপ দুধের সাথে বা শুধু দুধের সাথে সেবন করা ভাল।

ত্বকের যত্ন: ত্বকের ব্রণের ক্ষেত্রে অর্জুন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ছাল চূর্ণ করে মধুর সাথে মিশিয়ে ব্রণে লাগালে খুব দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া ছালের মিহি গুঁড়া মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে দাগ দূর হবে। বুক ধড়ফড়: যাদের বুক ধড়ফড় করে কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ নেই তাদের জন্য কাঁচা অর্জুনের ছাল ১০-১২ গ্রাম, ৫- 6 গ্রাম শুষ্ক হলে, একটু ছেঁকে, 250 মিলি দুধের সাথে মিশিয়ে 500 মিলিজল, এবং বিকালে আনুমানিক 125 মিলি থাকার জন্য চাপা.খেলে বুক ধড়ফড় অবশ্যই কমে যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে পেটে যেন বাতাস না থাকে। লো-ব্লাড প্রেসারে সঠিক নিয়মে খেলেও চাপ বাড়বে।

রক্তপাতঃ অনেক সময় অকারণে বা অকারণে রক্ত ​​উঠে বা পড়ে। সেক্ষেত্রে 4-5 গ্রাম ছাল রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে পানি ছেঁকে দিলে উপকার পাওয়া যায়।

ফোঁড়া: ফোঁড়া পাতা দিয়ে ঢেকে রাখলে ফোঁড়া ফেটে যায়, তাহলে পাতা দ্রুত শুকিয়ে যায়।

ক্ষত বা ক্ষত: শরীরে ক্ষত বা ঘা দেখা দিলে, অর্জুনের ছালের ক্বাথ দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং ছালের মিহি গুঁড়া জলে মিশিয়ে লাগালে ক্ষত দ্রুত সেরে যায়।

কান ব্যথা: অর্জুন কানের ব্যথায় ব্যবহৃত হয়। কচি পাতার রস দুই ফোঁটা কানের ভিতর রাখলে কানের ব্যথা উপশম হয়।

যৌন রোগ: অর্জুনের ছালের গুঁড়া যাদের যৌন বিতৃষ্ণা আছে তাদের জন্য উপকারী। এই ছাল গুঁড়ো দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত খেলে এই রোগ সেরে যায়। এছাড়া যাদের শুক্রমেহ আছে তারা 4-5 গ্রাম অর্জুনের ছালের গুঁড়া আধা কাপ গরম পানিতে 4-5 ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে তারপর ছেঁকে সেই পানিতে 1 চামচ সাদা চন্দন মিশিয়ে খেতে পারেন।

রক্তের আমাশয়: অর্জুনের ছালের ক্বাথ 4-5 গ্রাম ছাগলের দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে হজমের উন্নতি হয়: ডায়রিয়া বা অন্য কোনও পেটের সমস্যা হলে 45-30 গ্রাম অর্জুনের ছাল খেলে হজমের উন্নতি হয় এবং সমস্যা দূর হয়।

মুখ, জিহ্বা ও মাড়ির প্রদাহ: এই রোগের চিকিৎসায় অর্জুনের ছাল ব্যবহার করা হয়। এটি মাড়ি থেকে রক্ত ​​পড়াও বন্ধ করে। অর্জুনের ছালও তেজস্ক্রিয় এবং অ্যান্টিপাইরেটিক হিসেবে কাজ করে।

এছাড়াও এর অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। সম্প্রতি অর্জুন গাছের ছাল থেকে ‘অর্জুন চা’ তৈরি করা হচ্ছে যা হৃদরোগের জন্য খুবই কার্যকরী।

ভেষজ গবেষক ও চিকিৎসক চেয়ারম্যান মডার্ন হারবাল গ্রুপ মোবাইলঃ ০১৯১১৩৮৬৬১৭

সম্পর্কিত